অঙ্গসংগঠনের লাগাম টানছে বিএনপি


অঙ্গসংগঠনের লাগাম টানছে বিএনপি
বিএনপির অঙ্গসংগঠনের মধ্যে বেশ কয়েকটির কোন্দল চরমে পৌঁছেছে। সম্প্রতি একপক্ষের কর্মসূচি পণ্ডে আরেক পক্ষকে বেশ মারমুখী দেখা গেছে। এ নিয়ে সিনিয়র নেতারাও বিব্রত। কোন্দলের প্রভাব দলটির চলমান সরকার পতনের আন্দোলনেও পড়ছে। ফলে আন্দোলন সফলের স্বার্থেই অঙ্গসংগঠনের লাগাম টানতে যাচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সভায় নেতারা এ বিষয়ে একমত পোষণ করেন। তাঁরা মনে করেন, আগামীতে এক দফা আন্দোলন শুরুর আগে যে কোনো মূল্যে দলের অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে ‘চেইন অব কমান্ড’ ফিরিয়ে এনে কোন্দল নিরসন ও নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। এ জন্য যা যা দরকার, তার সবটাই করতে হবে। বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতা জানান, অঙ্গসংগঠনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নেতাকর্মীর বিভাজন বাড়ছে, যা সরকারবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের সাফল্য পেতে বড় বাধা। এ জন্য সবাইকে জবাবদিহির আওতায় আনতে যাচ্ছে হাইকমান্ড। পাশাপাশি বিভাজন যাতে বাইরে বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না পায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা খুব শিগগির প্রকাশ করবে দপ্তর বিভাগ। যদিও এসব বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হননি। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি অভ্যন্তরীণ। দলের স্বার্থেই মন্তব্য করা সমীচীন হবে না।’ তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য জানান, সম্প্রতি বিভিন্ন কর্মসূচিতে দলীয় কোন্দল স্পষ্ট হয়েছে। পল্লবী থানা বিএনপির ইফতার অনুষ্ঠান পণ্ড করতে যুবদলের একটি অংশ সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। তারা হামলা করে সংবাদকর্মীদের আহত ও ক্যামেরা ভাঙচুর করে। তাদের আচরণে অনুষ্ঠানই ভণ্ডুল হয়ে যায়। দলের একটি অংশের এমন আত্মঘাতী সিদ্ধান্তে যেমন ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে, তেমনি আগামীতে সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে। ওই ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি টেলিভিশন চ্যানেল তাদের ক্যামেরা ভাঙচুরের ঘটনা তুলে ধরে জিডি করায় বিব্রত বিএনপি। ভবিষ্যতে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে অতি উৎসাহী নেতাকর্মী ও দায়িত্বশীলদের আচরণ নিয়ন্ত্রণের পক্ষে মত দেন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। সূত্র জানায়, কমিটি গঠন নিয়ে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীর মধ্যে কোন্দল ও বিশৃঙ্খলা বেড়ে গেছে। গ্রুপিংয়ের কারণে ত্যাগী ও পরীক্ষিত অনেকে পদবঞ্চিত হয়ে নিষ্ক্রিয় আছেন। অভিমান করে কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন না। এসব বিষয় নিয়ে দলের স্থায়ী কমিটির সভায় আলোচনা করেন নেতারা। সেখানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, পদবঞ্চিত হয়ে যাঁরা দলের বিরুদ্ধে কাজ করছেন কিংবা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেসব কমিটিতে বিভাজন আছে কিংবা নেতাকর্মী পদবঞ্চিত আছেন, তাঁদের বিষয়টি শিগগির সমাধান করা হবে। ত্যাগী ও যোগ্যদের দলে ফেরানো হবে। এ জন্য একটি কমিটি করা হবে। ওই কমিটির সুপারিশে ক্রমান্বয়ে সবাইকে পদ-পদবিতে আনা হবে। স্থায়ী কমিটির আরেক নেতা জানান, দলের কোন্দলের বিষয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানেন। সামনে সরকারবিরোধী বড় আন্দোলন আসছে, তার আগ মুহূর্তে কোন্দল কাম্য নয়। এ জন্য বিএনপিসহ দলের সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোন্দল নিরসনে শীর্ষ নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এসব বিষয়ে শিগগির পদক্ষেপ শুরু হবে।