ইমরান-ক্যান্টনমেন্ট মসনদ দখল লড়াই
অনলাইন নিউজ ডেক্স
পাকিস্তানে দিনেদিনে গাঢ় হয়ে উঠছে সেনা শাসনের ছায়া। সেনাস্বার্থে আঘাত লাগলেই সরকার উৎখাত-পাকিস্তানের জন্মলগ্ন থেকে জেঁকে বসা সেনাবাহিনী ও জনপ্রতিনিধিদের এ মসনদ দখল লড়াই সম্প্রতি আবারও প্রকট হয়ে উঠেছে।
রাওয়ালপিন্ডির (সেনাসদর দফতর) পরোক্ষা কলকাঠিতে গত বছর প্রধানমন্ত্রীর গদি থেকে ইমরান খানকে উৎখাতের পর থেকেই দেশটির সবচেয়ে শক্তিশালী এ উর্দিগোষ্ঠীর ক্ষমতা দখলের পূর্বাভাস আরও চাঙা হয়ে উঠছিল। আর এখন চরমপর্যায়ে।
আল-কাদরি ট্রাষ্ট মামলায় ইমরান খানকে গ্রেফতারের পর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে হাজার হাজার পিটিআই নেতা ও সমর্থককে জেলে ঢোকানো হয়েছে। তাদের মধ্যে আবার কয়েকজন সেনা আইনে বিচারের ঘোষনা দিয়েছে সেনাবাহিনী।
কুরসি দখলের এ লড়াইয়ে সামরিক স্থাপনায় হামলা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সেনাপ্রধানকে কটাক্ষের ঘটনাগুলোর একেকটিকে টার্নিং পয়েন্ট বলা যায় মাত্র। পরিস্থিতি এখন রীতিমত ঘোলাটে।
একদিকে চলছে ইমরান বনাম সেনাবাহিনীর লড়াই, অন্যদিকে ক্ষমতাসীন জোট বনাম শীর্ষ বিচার বিভাগ। এক প্রতিষ্ঠান আরেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। চর দখলের মত দশা- রাজনীতির মাঠ দখলে চলছে সরকার-বিরোধী দলের পাল্টাপাল্টি আন্দোলন।
ক্ষমতাসীন জোট বিচার বিভাগকে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে থাকার অভিযোগে বিচারপতিকে অপসারণে বিক্ষোভে নেমেছে। ইমরানকে গ্রেফতারের একদিনের মধ্যে মুক্তির দাবি ও পরবর্তী পদক্ষেপ থেকে সুরক্ষার জন্য আদালতের আদেশ দুপক্ষের দ্বন্দকে আরও তীব্রতর করেছে।
এমনকি প্রধান বিচারপতিকে অপসারনের দাবিতে একটি প্রস্তাবও পাস করেছে সংসদ। পাকিস্তানের এই ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে শেষ পরিণতি কি তা এখনো অনিশ্চিত।
ইমরান খান ও তার দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ রাজনৈতিক মেরুকরণকে পুরো দেশকেই আরও বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। ৯ মে কর্পস কমান্ডারদের বৈঠকে (লাহোর সেনানিবাসে হামলার দিনই) সামরিক স্থাপনায় হামলার অপরাধীদের বিচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এই সিদ্ধান্তুই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়াবে।
আর্মি অ্যাক্ট ও অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট-এর অধীনে বেসামরিক ব্যক্তিদের বিচার করার পদক্ষেপকে বৈধতা দেওয়া সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে কঠিন হবে । আর এ বৈধতা দেওয়া হলে সামরিক বাহিনীর ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে আরও উস্কে দেওয়া হবে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে আরও ধীরগতির করে তুলবে।
এদিকে ‘জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করাসহ গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালীকরণে চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে অগ্রাধিধকার হিসাবে মোকাবেলা করার জন্য সকল অংশীদারদের মধ্যে জাতীয় ঐকমত্যের’ আহ্বান জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর শীর্ষস্থানীয়রা।
কিন্তু দমন-পীড়ন ও সেন্সরশিপের পরিবেশে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনা কোনভাবেই সম্ভব নয়। পাকিস্তানে জোরপূর্বক গুম হওয়ার খবরও রয়েছে। এমনকি তা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না সাংবাদিকরাও।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইন্টারনেট পরিষেবাগুলো প্রায়ই বন্ধের হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই ধরনের সেন্সরশিপ ভুয়া খবর এবং ভুল তথ্য ছড়ানোকে উৎসাহিত করেছে। পাকিস্তান এখন অস্তিত্ববাদী হুমকির সম্মুখীন।
পাকিস্তানের শান্তি ফিরিয়ে আনতে দেশের সকল অংশীদারদের মধ্যে একটি জাতীয় ঐকমত্যের ভীষণ প্রয়োজন । তবে তার জন্য দরকার প্রথমে রাজনৈতিক অস্থিরতা কমানো। দমন-পীড়নের আশ্রয় নিয়ে দেশের বিশৃঙ্খলাকে আরও বাড়ানো উচিত নয়।
