ওয়ার্ড জনপ্রতিনিধিদেরও সক্রিয় করছে বিএনপি


ওয়ার্ড জনপ্রতিনিধিদেরও সক্রিয় করছে বিএনপি
নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আদায়ে চূড়ান্ত আন্দোলনের পথে বিএনপি। ‘অলআউট’ মাঠে নামতে নেওয়া হচ্ছে নানা পরিকল্পনা। এবার নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দলটির হাইকমান্ড। এরই অংশ হিসাবে বিএনপি সমর্থিত ওয়ার্ডের (সিটি করপোরেশন, পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদ) সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় করা হচ্ছে। তাদের তালিকা তৈরির জন্য দশ সাংগঠনিক বিভাগে সাবেক ও বর্তমান ছাত্রনেতাদের সমন্বয়ে পৃথক টিমও গঠন করেছে। তালিকা প্রস্তুত হলে নারী জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে বিএনপির হাইকমান্ডের বৈঠক হবে। আন্দোলনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করার পাশাপাশি তা সফলে নিজ নিজ এলাকায় সমন্বয়ের ভূমিকায়ও তাদের রাখা হতে পারে। বিএনপি সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। এর আগে দশ সাংগঠনিক বিভাগে থাকা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানদের (বিএনপি সমর্থিত) তালিকা তৈরি করে বিএনপি। গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে প্রায় সাড়ে তিন হাজার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানদের সঙ্গে গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ধারাবাহিক মতবিনিময় সভা করেন সিনিয়র নেতারা। সব সভাতেই স্কাইপিতে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপি নেতারা জানান, ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা ফলপ্রসূ হয়েছিল। তাদের পরামর্শ দলকে অনেক গতিশীল করেছে। এজন্য এখন সারা দেশের সিটি করপোরেশন, পৌর ও ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের তালিকা করতে হাইকমান্ড নির্দেশনা দিয়েছে। শিগগিরই নারী জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সিনিয়র নেতাদের বৈঠক হবে। এজন্য আলাদাভাবে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর ও মেম্বারসহ সাধারণ ওয়ার্ডের নারী জনপ্রতিনিধিদের তালিকা করতে বলা হয়েছে। নেতারা আরও জানান, স্থানীয় পর্যায়ে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও মেম্বারদের ব্যাপক প্রভাব থাকে। চূড়ান্ত আন্দোলনে তাদের কাজে লাগাতে চাইছে হাইকমান্ড। জানা গেছে, দশ বিভাগে সাবেক ছাত্রনেতাদের সমন্বয়ে পৃথক টিম তালিকা তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু করেছেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে তাদের সহযোগিতা করবেন কেন্দ্রীয় সহদপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু। এ নিয়ে তারা বৃহস্পতিবারও নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বৈঠক করেছেন। জানতে চাইলে তাইফুল ইসলাম টিপু বলেন, ওয়ার্ড পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধির সঙ্গে হাইকমান্ডের নিবিড় সম্পর্কের প্রক্রিয়া চলছে। তাদের তালিকা তৈরি করতে দশ সাংগঠনিক বিভাগে দশটি টিম করা হয়েছে। তারা কাজ শুরু করেছেন। যাদের নেতৃত্বে টিম : ঢাকা বিভাগে সাবেক ছাত্রনেতা ওমর ফারুক শাফীন, আকরামুল হাসান ও ওবায়দুল হক নাসির। চট্টগ্রামে বেলাল আহমেদ, একরামুল হক বিপ্লব ও মশিউর রহমান বিপ্লব। বরিশালে কাজী রওনকুল ইসলাম টিপু, হাসান মামুন, হায়দার আলী লেলিন, দুলাল হোসেন ও রফিকুল ইসলাম। কুমিল্লায় শেখ শামীম, সালাউদিন ভূঁইয়া শিশির ও আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী। সিলেটে কাজী রফিক, কাজী ইফতেখারুজ্জামান শিমুল ও ইকবাল হোসেন শ্যামল। ময়মনসিংহে শামসুজ্জামান সুরুজ, আব্দুল বারী ড্যানী ও শহীদুল্লাহ ইমরান। রাজশাহীতে আব্দুল মতিন, আবু বক্কর সিদ্দিক ও ফজলুর রহমান খোকন। খুলনায় খান রবিউল ইসলাম, মীর রবিউল আলম লাভলু ও জাকির হোসেন বাবু। রংপুরে আমিরুজ্জামান খান শিমুল, আশফাকুল ইসলাম সরকার মুনু ও আহসান উল্লাহ খান শিপন এবং ফরিদপুরে আবু সাইদ, শেখ আব্দুল হালিম খোকন, আসাদুজ্জামান পলাশ। এসব টিমে আরও কিছু নেতাকে সংযোজন করা হতে পারে বলে জানা গেছে। বরিশাল বিভাগীয় টিমে থাকা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য দুলাল হোসেন বলেন, ‘আমরা তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছি। তথ্য সংগ্রহ শেষে দল তারিখ দিলে নারী জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বৈঠক হবে।