কালো টাকা নিলেও ভোটটা স্বাধীনভাবে দিয়েন


কালো টাকা নিলেও ভোটটা স্বাধীনভাবে দিয়েন
গাজীপুর সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল ভোটের মাঠে কালো টাকার ব্যবহার নিয়ে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি এ নিয়ে খুব বেশি মাথা না ঘামানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘কালো টাকা যতই বিতরণ করা হোক, যদি মনে করেন কনট্রোল করতে পারছেন না, কালো টাকা গ্রহণকারীদের বলে দেবেন, ভাই কালো টাকা নিলেও নিয়েন, ভোটটা কিন্তু স্বাধীনভাবে দিয়েন, যাকে বিশ্বাস করেন, যাকে ভালো মনে করেন তাকেই দিয়েন।’ বুধবার গাজীপুর মহানগরের শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টার অডিটোরিয়ামে মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সিইসি। রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফরিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর, নির্বাচন কমিশনের সচিব জাহাঙ্গীর আলম, ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার সাবিরুল ইসলাম, গাজীপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান। মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান, জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী এমএম নিয়াজ উদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান, জাকের পার্টির রাজু আহাম্মেদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন, শাহনুর ইসলাম সরকার রনি (রনি সরকার) ও হারুন অর রশীদ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থায় এখনো কালো সংস্কৃতি রয়ে গেছে। আপনাদের চেষ্টায় হয়তো একটা সময় সুশৃঙ্খল, অহিংসভাবে ভোটাররা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য আমাদের আন্তরিকতা ও চেষ্টার অভাব থাকবে না। আমরা পুরোপুরি সেই চেষ্টাটাই করব। কিন্তু আপনাদেরও স্ব-স্ব অবস্থানে থেকে নির্বাচন সুষ্ঠু করার বিষয়ে চেষ্টা করতে হবে। তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন করা আমাদের নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। তবে এটা ঠিক, নির্বাচন কমিশন এককভাবে তেমন কিছু করতে পারবে না; যদি আমাদের সহযোগী প্রশাসন এবং পুলিশ প্রশাসন তাদের দায়িত্ব শক্তভাবে এবং পেশাগতভাবে নিষ্ঠার সঙ্গে পালন না করে।’ কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্রের ভিত্তি। তাই আমাদের সবচেয়ে বেশি ফোকাস রাখতে হবে ভোটের দিনের ওপর। ভোটাধিকারের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার দুর্নীতি, অসততা, অপকর্ম হচ্ছে কিনা-সেটা দেখতে হবে। যারা আমাদের নির্বাচন কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং অফিসার থাকবে তাদের এটা নিশ্চিত করতে হবে। কেন্দ্রের ভেতরে এবং বুথের ভেতরে কোনোরকম চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে না-এটি নিশ্চিত করতে হবে। ভোটগ্রহণে কোনোরকম দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করা হচ্ছে না-তা নিশ্চিত করতে হবে। ভোটে কোনো প্রকার অনিয়ম, দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। সিইসি বলেন, এই নির্বাচনের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ আমাদের নির্বাচন নিয়ে কথা বলছে। আমরা কিন্তু তাদের মুখ চেপে ধরতে পারছি না। পৃথিবীটা এখন উন্মুক্ত। আমাদের নির্বাচন নিয়ে আমেরিকা কথা বলছে। ইউকে কথা বলছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কথা বলছে। জাপান কথা বলছে। ইউনাইটেড ন্যাশন্স থেকেও কথা বলা হচ্ছে। কাজেই গাজীপুর সিটিতে যে নির্বাচন হবে, এটার গুরুত্ব নির্বাচন কমিশনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এত বড় পরিসরে একটা নির্বাচন হবে। এই নির্বাচন জাতীয়ভাবে অনেক গুরুত্ব বহন করবে বলে আমরা মনে করি। তাই গাজীপুর সিটি নির্বাচন মডেল হোক-এটাই আমরা চাই। নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য করতে তিনি প্রার্থীদের পাশাপাশি সবার সহযোগিতা চান। ইভিএমের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইভিএমে আস্থা রাখুন। ইভিএমে উপস্থিতি কম হতে পারে কিন্তু একজন ভোটার ৫০টা ভোট দিতে পারবে না।’ সভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আজমত উল্লা খান বলেন, ‘যারা ইভিএমে ভোটগ্রহণ করবেন তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু ভোটারদের জন্য কী করা হচ্ছে? এই মেশিনে ভোটাররা অভ্যস্ত নন। এ বিষয়ে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নির্বাচন কমিশনের আগাম পদক্ষেপ নিতে হবে।’ জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) মেয়র প্রার্থী এমএম নিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘মানুষের মধ্যে প্রশ্ন নির্বাচন সুষ্ঠু হবে তো? নির্বাচনে তালগাছে ভোট দিলে সেটা বেলগাছে চলে যাবে না তো? এই প্রশ্নগুলো করার কারণ আপনারা অবশ্যই ভালো জানেন। বিগত দিনে অনেকগুলো নির্বাচন মানুষের কাছে প্রশ্ন সৃষ্টি করেছে। আমাদের আশঙ্কা গাজীপুর সিটি নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে কিনা।’ স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সরকার শাহনুর ইসলাম রনি বলেন, ‘গত ২০১৮ সালের গাসিক নির্বাচনে আমার চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার মেয়র প্রার্থী ছিলেন। ওই নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির বিষয়টি সবাই প্রত্যক্ষ করেছেন।’ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী গাজী আতাউর রহমান বলেন, জনগণের মধ্যে শঙ্কা আছে গাজীপুরে সুষ্ঠু ভোট হবে কী হবে না। নির্বাচন কমিশন তাদের কাজের মাধ্যমে জনগণকে আশ্বস্ত করতে হবে। তিনি বলেন, এটা পরিষ্কার হওয়া দরকার, কারা ইভিএম মনিটরিং করবেন। কাদের প্রিসাইডিং অফিসার করা হবে। কোনো দলীয় কর্মী এবং দলীয় অনুগত লোক প্রিসাইডিং অফিসার হবে কিনা। এজন্য আমাদের কাছে আগেই প্রিসাইডিং অফিসারদের পরিচয় তুলে ধরতে হবে।