কেন্দুয়ায় গৃহবধূ খুন
আনোয়ার উদ্দিন কেন্দুয়া প্রতিনিধি নেত্রকোনা ময়মনসিংহ
নেত্রকোনার কেন্দুুয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীর হাতে শাপলা আক্তার নামে এক গৃহবধু খুনের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার ২৮(জুলাই) ভোরের দিকে উপজেলার ১৪ নং মোজাফফরপুর ইউনিয়নের গগডা ভূইয়া পাড়া গ্রামে।পুলিশ ২ জনকে আটক করেছে।
আটককৃতরা হলেন নিহত শাপলা আক্তারের (৩০) স্বামী মোখলাদ হোসেন(৩৫) এবং তার ছোট ভাই মোজাহিদ হোসেন(২৭)।তারা দুজনেই ঐ গ্রামের মদরিস ভূঞার ছেলে।
নিহতের ভাই শফিকুল ইসলাম জানায় আমার ভগ্নিপতি মোখলাদ হোসেন আমাকে ফোনে বলে তোমার বোনের শরীরে আগুন লেগেছে তাড়াতাড়ি আস।আমি এসে দেখি চাদর দিয়ে শরীর ঢাকা।আমাকে দেখতে দিচ্ছে না।পরে আমি জোর করে চাদর উঠিয়ে দেখি আমার বোনের মাথার মস্তক বের হয়ে রয়েছে।তিনি আরো বলেন গত ঈদের আগে আমার বোনের অলংকার আমার ভগ্নিপতির ভাগিনা চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল।এ নিয়ে কয়েকবার দরবার ও হয়েছিল।কথা ছিল শীগ্রই এগুলো দিয়ে দিবে।আমার ধারনা আমার বোন আগুনে পুড়ে মরে নাই, ষড়যন্ত্র করে তারা আমার বোনকে মেরে ফেলেছে।আমি আমার বোনকে যারা খুন করেছে তাদের উপযুক্ত বিচার চাই।
এদিকে নিহতের আটক স্বামী মোখলাদ হোসেন জানান ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না।তারা স্বামী স্ত্রী এক সাথে ফজরের নামাজ পড়েছেন। নামাজ পড়ে তিনি হাওরে চলে যান।স্রীর মৃত্যুর খবর শুনে তিনি বাড়িতে এসেছেন বলে এমনটি দাবি করেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায় গত বছরের ডিসেম্বর মাসে উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের কীর্তনখোলা গ্রামের মতি মিয়ার মেয়ে শাপলা আক্তারের সাথে বিদেশ ফেরত মোখলাদ হোসেনের বিয়ে হয়েছিল।
মোজাফফরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির আলম ভূঞা গগডা ভূইয়া পাড়া গ্রামের শাপলা আক্তার নামের এক গৃহবধুর খুনের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলী হোসেন পিপিএম বলেন উপজেলার মোজাফফরপুর গ্রামের শাপলা আক্তার নামের এক গৃহবধুকে খুনের অভিযোগে তার স্বামী ও দেবরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পুলিশ সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করেছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে।ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
