গজারিয়ায় নিজ ছেলেকে হত্যার দায়ে মা ও বাবার যাবজ্জীবন কারাদন্ড।


গজারিয়ায় নিজ ছেলেকে হত্যার দায়ে মা ও বাবার যাবজ্জীবন কারাদন্ড।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় নিজ ছেলেকে হত্যার দায়ে মা ও বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। সেই সাথে অপর একটি ধারায় ৫ বছরের সশ্রম করাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ৫ মাসের বিনাশ্রম করাদান্ড দেওয়া হয়েছে। আজ রবিবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোতাহারাত আখতার ভুইয়া এ রায় ঘোষনা করেন।দন্ডপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দি গ্রামের মো. লোকমান শিকদারের ছেলে শামিম শিকদার(৪০) ও তার স্ত্রী হাসিনা বেগম(৩৮)। আসামী শামিম শিকদার গ্রেফতারের পর হতে কারাগাওে ছিলো। আজ তাকে কারাগার হতে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষনার পর তাকে পুনরায় কারাগারে প্রেরন করা হয়েছে। এ সময় অপর আসামী নিহতের মা হাসিনা বেগম জামিনে মুক্ত থেকে আদালতে হাজির হয়। রায়ের পর তাকেও কারাগারে প্রেরন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চত করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোজাফ্ফর আলী।জানাগেছে ২০২০ সালের ২০ ডিসেম্বর রাত ১০টার দিকে নিহতের ভাই এই মামলার বাদী হাসানসহ তার বাবা-মা, ছোট বোন একটি ঘরে ঘুমিয়ে পরে । নিহত পার্শ্ববর্তী তাহার বসত ঘরে ঘুমায়। রাত ৩ টার দিকে নিহতের ছোট বোন শিলা প্রসাব করতে ঘরের বাইরে গেলে নিহত হাসান তাকে ডাক দিয়ে তার বসত ঘরে নিয়ে ধর্ষনের চেষ্টা করে। এ সময় শিলা চিৎকার করলে পাশের ঘর হতে তার বাবা-মা নিহত হাসানের ঘরে যায়। পরে ধর্ষনের চেষ্টার বিষয়টি জানতে পেরে হাসানের বাবা মার আর বোন শিলা মিলে হাসানকে খাটের উপর শোয়াইয়া বালিশ দিয়ে চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ সময় হাসানের মা পা চেপে ধরে রাখে। হাসানের বোন চাকু দিয়ে হাসানের পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলে। পরে লাশ গোপন করার জন্য বাড়ির পিছনে ডোবায় কচুরীপানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে ২০২১ সালের ৮ জানুয়ারী সকাল ৯টার দিকে নিহতের বাড়ির পিছনে ডোবায় হাসান (২০) এর অর্ধগলিত লাশ ভেসে ওঠে। এ সময় লাশ দেখে থানায় সংবাদ দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই মো. হোসেন বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় ২০২১ সালের ৯ জানুয়ারী নিজ বাবা মা ও বোনকে আসামী করে মামলা করলে পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করে। পরে আসামী ঘাতক পিতা শামীম শিকদার ঘটনা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। এ ঘটনায় মামলার সাক্ষ্য প্রমানের ভিত্তিতে আদালত আসামীদের দোষী সাব্যস্ত করে এ রায় দেন।এ ব্যাপারে রাস্ট্র পক্ষের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট অজয় কুমার চক্রবর্তী জানান, আপন ছেলেকে মা ও বাবা হত্যা করায় অপর ছেলে বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় হত্যা মামলা করে। এ ঘটনায় আদালত মা ও বাবাকে দোষি সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদন্ড সহ অপর একটি ধারায় দোষি সাব্যস্ত করে ৫ বছরের সশ্রম করাদন্ড ও ৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরো ৫ মাসের বিনাশ্রম করাদান্ড দিয়েছে আদালত। আদালতের রায়ে আমরা রাস্ট্র পক্ষ সন্তুষ্ট।