গজারিয়ায় সুপার বোর্ডে লাগা আগুন ১২ ঘন্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।


গজারিয়ায় সুপার বোর্ডে লাগা আগুন ১২ ঘন্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি।
মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া মেঘনা নদীর তীরে সুপার ফর্মিকা এন্ড লমিনেশন (সুপারবোর্ড) নামের একটি কারখানার গোডাউনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুর ১টার দিকে উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের সিকিরগাঁও এলাকায় এ আগুন লাগে। এদিকে কারখানা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১২ টি ইউনিট। জানা গেছে, সুপারবোর্ড নামের এই কারখানাটি প্লাইবোর্ড দিয়ে বিভিন্ন আসবাপত্র তৈরি করে ওই গোডাউন রেখেছে। আজ দুপুর হটাৎ করে আগুল লেগে যায়। মুহুর্তের মধ্যে আগুন আশপাশে ছড়িয়ে পরে। এতে নদী তীরে নোঙ্গর করা পাটখড়ি ট্রলার আগুন লেগে যায়। এ ঘটনায় ৭ জন হতাহতের খবর পাওয়া গেছে তবে গুরুত্ব এবং এবং নিহত হওয়ার কোন খবর পাওয়া যায়নি । আগুন নিয়ন্ত্রণে রিমোট কন্ট্রোল ফায়ার ফাইটিং রোবট, এবং স্টেন্ডার মেশিন কাজ করতে দেখা গেছে।বিষয়টি সম্পর্কে ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক ইউনিট ঢাকা বিভাগ মো: ছালেহ্ জানান, আমরা ১ টা ১১ মিনিটে খবর পাই পরে ফয়ার স্টেশন গজারিয়া এবং আদমজী ফায়ার স্টেশন আগুন নিয়ন্ত্রণে ছুটে আসে। তবে আগুন ভয়াবহতা দেখে অন্য অন্য স্টেশনের সাহায্য চাই পরে পর্যায় ক্রমে সোনারগাঁও, বন্দর, সিদ্দিক বাজার, ডেমরাসহ এই রকম ভিন্ন স্টেশন থেকে মোট ১০ টা ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কাজ করে।কোম্পানিটির কর্মচারী মো: জসিম ডোনেট  বাংলাদেশ কে বলেন, দুপুর ১ টার সময় আগুন লাগে প্রাথমিক ভাবে সুপার বোর্ডের কর্মচারীরা কোম্পানির মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণের যে ব্যবস্থা রয়েছে সেটি ব্যবহার করে আগুনটা যেন অন্য গোডাউন বা অন্য কোন শিফটে ছাড়াতে না পারে সেটার জন্য চেষ্টা করেছি। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে কাজ শুরু করে। এ ঘটনায় আরেক কর্মচারী মো: ইমন ডোনেট  বাংলাদেশ কে বলেন, হটাৎ সাইরেনের শব্দ শুনে দেখি আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে, আমরা ভয় পেয়েগেছি। তবে তিনি ফায়ার সার্ভিস অনেক দেরি করে আসার অভিযোগও করে। তিনি আরো বলেন প্রথমে আমারা কর্মচারীরা আগুন নেবানের জন্য চেষ্টা করি। কিন্তু আগুন নিয়ন্ত্রণ আনতে পারি নাই।সুপার বোর্ড কোম্পানিটির পরিচালক শফিউল আতাহার তাসলিম ডোনেট  বাংলাদেশ কে বলেন,আমরা এখনো জানতে পারি নাই কি কারনে আগুন লেগেছে। আমদের আগুন নির্বাপনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে তাছাড়া আফিশিয়াল ম্যান পাওয়ার আছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এখানে ৭ টা দল আছে সেই ম্যান পাওয়ার দিয়ে প্রথমে চেষ্টা করেছি যেন ক্ষতি টা বেশি না হয়। এছাড়াও আমাদের ৩৫ টা পানির লাইন দিয়ে কাজ করেছি। তবে কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে সেটা এখনো জানা সম্ভব হয়নি। গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রাজিব খান ডোনেট  বাংলাদেশ কে বলেন, দুপুর একটার দিকে আগুন লাগার খবর পাই। আগুন নিয়ন্ত্রণে ঢাকা জেলা, নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং গজারিয়ার ফায়ার স্টেশন মিলে মোট ১০টি ইউনিট কাজ করেছে এখন পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে কি কারণে আগুন লেগেছে সেটি এখনো জানা যায়নি। তবে এ ঘটনায় কয়েকজন হতাহত হয়েছে এই বিষয়ে খবর পেয়েছি।তবে এ ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রসাশক মাসুদুর রহমানকে প্রাধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট ১টি তদন্ত কমিটি ঘটন করা হয়েছে। এই কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। দুপুর ১ টা বাজে আগুন লাগার পর থেকে দীর্ঘ ৮ ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পর এখন পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।  তবে সন্ধ্যায় ইফতারের আগ মূহুর্তে কিছুখন বৃষ্টি হলে কিছু টা নিয়ন্ত্রণে আসলেও বৃষ্টি শেষ হওয়ার পর পর আবার আগুটা দাউদাউ করে জ্বলে উঠে।১টা বাজে রিপোর্ট লেখার সময়  দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে দেখা যায়।