ঢাকা বাদে সব মহানগরে ফের পদযাত্রা বিএনপির
অনলাইন নিউজ ডেক্স
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ ছাড়া দেশের সব মহানগরে পদযাত্রার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ২৩ ও ২৮ মে দুধাপে এ কর্মসূচি পালন করবে দলটি।
বৃহস্পতিবার নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এর আগে ৮২টি সাংগঠনিক জেলায় চার ধাপে জনসমাবেশের ঘোষণা দেয় দলটি। প্রথম ধাপে আজ ঢাকা উত্তরসহ ২৭ জেলায় পালন করা হবে এ কর্মসূচি। এতে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জনসমাবেশে স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস-চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম-মহাসচিব প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন।
ঢাকা মহানগর উত্তরের সমাবেশ দুপুর আড়াইটায় শ্যামলী ক্লাব মাঠে হবে। এতে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
‘উচ্চ আদালতের নির্দেশনাকে অধীনস্থ আদালত ও সরকারের অবজ্ঞা, গায়েবি মামলায় নির্বিচারে গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা ও পুলিশি হয়রানি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুতের লোডশেডিং, আওয়ামী সরকারের সর্বগ্রাসী দুর্নীতির প্রতিবাদ এবং ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নে’ এসব কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন-বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, কেন্দ্রীয় নেতা আমিরুল ইসলাম খান আলিম, খান রবিউল ইসলাম রবি, তারিকুল আলম তেনজিং প্রমুখ।
রুহুল কবির রিজভী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথাকথিত উন্নয়নের গল্প এখন আর দেশ-বিদেশে কেউ বিশ্বাস করে না। পৃথিবীর পূর্ব-পশ্চিম সফর করে এসে রীতিমতো প্রলাপ বকছেন। তাতে মনে হয় গণতান্ত্রিক বিশ্বের কাছ থেকে তার দুঃশাসনের পক্ষে স্বীকৃতি পাননি।’
তিনি বলেন, ‘মাফিয়া সরকারের পতনের দিন গণনা শুরু হয়েছে। এর প্রমাণ হলো সরকারের মন্ত্রী-এমপিরাও এখন সত্য কথা ফাঁস করতে শুরু করেছেন। সরকারের লুটপাট সিন্ডিকেট, গুম, খুন, দুর্নীতি দুঃশাসনের কথা জনসম্মুখে ফাঁস করে মাফ চাচ্ছেন কোনো কোনো মন্ত্রী।
সম্প্রতি শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারের সত্য উন্মোচন বিলম্বিত বোধোদয়! শেষ সময়ে হয়তো এসব কথা ফাঁস করছেন। দেড় দশক ধরে এ বিষয়ে কথা বলার কারণে সরকার আমাদের ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন জেল-জুলুম চালিয়ে আসছে। সামনে সব সত্য মাফিয়া সরকারের মুখ থেকে ক্রমেই বেরুবে। তারা একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে অপকর্মের সাক্ষ্য দেবে। জনগণের কাঠগড়ায় তাদের বিচার হবেই।’
রিজভী বলেন, সরকারের কোনো ফন্দি-ফিকির, কূটকৌশলে আর কাজ হচ্ছে না। শেখ হাসিনা টের পাচ্ছেন, কখনো ভোট ডাকাতি, কখনো বিনা ভোটে আবার কখনো রাতের অন্ধকারে জনগণের ভোটাধিকার লুট করে ক্ষমতায় থাকার দিন শেষ।
এখন চরম আতঙ্কবোধ করছে সরকার। সেজন্য নতুন ষড়যন্ত্রে মেতেছে। তার অসংলগ্ন কথাবার্তা, হুমকি এবং ২০১৮ এর নির্বাচনের আগে গায়েবি মামলা আর গ্রেফতারের হিড়িকের সুস্পষ্ট লক্ষণ আবারও ফুটে উঠছে।’
