তিতাস গাসে ভুল সিদ্ধান্তে অচল হোসেন্দী ইকোনমিক জোন।


তিতাস গাসে ভুল সিদ্ধান্তে অচল হোসেন্দী ইকোনমিক জোন।
তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের হঠকারী এক সিদ্ধান্তে মুন্সিগঞ্জে বেসরকারি হোসেন্দী ইকোনমিক জোন অচল হয়ে পড়েছে। অবৈধ সংযোগ কাটতে না পেরে লাইনেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে তিতাস। এতে কোরবানির আগমুহূর্তে বন্ধ হয়ে গেছে দেশের সর্ববৃহৎ লবণ উৎপাদন কারখানা। একই অবস্থা আশপাশের রফতানিমুখী শিল্প কারখানারও।সম্প্রতি মুন্সিগঞ্জে অবস্থিত হোসেন্দী ইকোনমিক জোনে সরেজমিনে দেখা গেছে,ঘুরছে না কারখানার চাকা। তাই কর্মীদের কেউ খোশগল্পে, কেউ বা ব্যস্ত ফোনে। স্থানীয়দের অবৈধ সংযোগ কাটতে না পেরে গত মঙ্গলবার (১৩ জুন) থেকে লাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখেছে তিতাস গ্যাস। ফলে মুন্সিগঞ্জের হোসেন্দী ইকোনমিক জোনে অচল অবস্থা তৈরি হয়েছে।১০৮ একরের এই ইকোনমিক জোনেই রয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ লবণ উৎপাদন কারখানা ঢাকা সল্ট অ্যান্ড কেমিক্যালস লিমিটেড। কোরবানির আগে এখানে প্রতিদিন ৬৭২ লবণ উৎপাদন করা হয়। অথচ গ্যাসের অভাবে উৎপাদন বন্ধ থাকায় এই কারখানা থেকে গত পাঁচ দিনে বাজারে ৩ হাজার ৩৬০ টন লবণ সরবরাহ করা যায়নি।শুধু তাই নয়, এই ইকোনমিক জোনেই গড়ে উঠছে দেশের সর্ববৃহৎ কাগজ উৎপাদন কারখানা, ইকো বাংলা পেপার মিলস লিমিটেড। পাশাপাশি কাজ চলছে দৈনিক ৩ হাজার টন উৎপাদন সক্ষমতার চিনির মিল ও দৈনিক ১৬ হাজার টন উৎপাদন সক্ষমতার সিমেন্ট কারখানার। একই সঙ্গে আছে সিটি এলপিজি লিমিটেডও। গ্যাসের অভাবে এসব কারখানায় যন্ত্রপাতি এনেও বসাতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়া হোসেন্দী ইকোনমিক জোন লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক জিয়াউর রহমান বলেন, গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে আমরা আমাদের প্লান্ট বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছি। এতে বাজারে লবণের সরবরাহ ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ইতোমধ্যে সরবরাহ সংকট দেখাও দিয়েছে। আমাদের আওতায় ৬টি প্রতিষ্ঠান নির্মাণাধীন রয়েছে। এর নির্মাণকাজও গ্যাসের অভাবে বন্ধ।   এদিকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে বড় সংকটে পড়েছে আশপাশের রফতানিমুখী শিল্প কারখানা। এসকোয়্যার এক্সেসরিজ লিমিটেডের হেড অব এইচআর আমির আলী বলেন, আমাদের তো বৈধভাবে গ্যাস লাইন নেয়া। আমাদেরটা কেন বন্ধ করা হলো? গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় আমরা আমাদের বায়ারদের নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে পারছি না। আমরা যদি ঠিক সময়ে পণ্য সরবরাহ করতে না পারি বা শিপমেন্ট করতে না পারি, তাহলে আমাদের তো বায়ারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।অন্যদিকে সমস্যা সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নিতে তিতাসকে আনুষ্ঠানিক চিঠিও দিয়েছে সিটি গ্রুপ। তবে পাঁচ দিনেও মেলেনি গ্যাস।এ নিয়ে তিতাস গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. হারুনুর রশিদ মোল্লাহ্ বলেন, যে কয়েকটি অবৈধ পয়েন্ট আছে সেগুলো কাটার পর পুনরায় গ্যাসের সরবরাহ করা হবে। আমরা খুব শিগগিরই গ্যাস সরবরাহ করব।বর্তমানে হোসেন্দী ইকোনমিক জোনে দেশি - বিদেশি মিলিয়ে পাঁচ হাজার কর্মী কাজ করছেন।