নাগরিকত্ব না পেলে যাবে না রোহিঙ্গারা
অনলাইন নিউজ ডেক্স
বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের পরিস্থিতি দেখতে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মংডুতে গিয়ে বেশ কয়েকটি ক্যাম্প ঘুরে এসেছে রোহিঙ্গাদের একটি প্রতিনিধি দল। সেখানকার পরিবেশ-পরিস্থিতি দেখতে শুক্রবার সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে টেকনাফ জেটিঘাট থেকে মিয়ানমারের উদ্দেশে রওনা হয় রোহিঙ্গাদের ২০ জন সদস্য।
তাদের সঙ্গে ছিলেন শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যবাসন কমিশনার মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের আরেক প্রতিনিধি দল। বিকালে তারা টেকনাফে ফিরে আসেন।
ফিরে এসে রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, নাগরিকত্ব ফিরে না পেলে তারা মিয়ানমারে ফিরে যাবে না। অন্যদিকে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের জানিয়েছে, এমবিসি কার্ড নিয়ে রোহিঙ্গাদের সন্তুষ্ট থাকতে হবে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে আদৌ কি রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন আলোর মুখ দেখবে।
মংডু পরিদর্শনের বিষয়ে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের কাছে রোহিঙ্গা সমস্যার একমাত্র সামাধান হল টেকসই প্রত্যাবাসন। সেক্ষেত্রে মিয়ানমারের কাছে বাংলাদেশের দাবি ছিল, যাদের জন্য এ আয়োজন তা যেন তারা স্বচক্ষে দেখে আসেন, তাই মিয়ানমারের আমন্ত্রণে রোহিঙ্গারা তাদের দেশে গিয়েছিল। সেখানে তারা তাদের জন্য তৈরি করা সবকিছু স্বচক্ষে দেখেছেন। সুতরাং তারাই বলতে পারবে তারা কি দেখেছে।
প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মিয়ানমার ঘুরে আসা রোহিঙ্গা মোহাম্মদ সেলিম বলেন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ আমাদের ক্যাম্প দেখিয়েছে। আমরা তাদের জিজ্ঞাসা করি, ক্যাম্প কাদের জন্য। তারা বলেছে, আপনাদের জন্য। আমরা তাদের কাছ থেকে জানতে চেয়েছি, এখানে এলে আমরা এ দেশের নাগরিকত্ব পাব কি না, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন পাবেন না। আপনাদের এমবিসি কার্ড নিয়ে থাকতে হবে।
সেলিম বলেন, মিয়ানমারে অন্যান্য জনগোষ্ঠী যেভাবে সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে সেভাবে যদি আমরা অধিকার না পাই তাহলে আমরা মিয়ানমারে ফিরে যাব না।
একই ধরনের মন্তব্য করেছেন রোহিঙ্গা দম্পতি ইলিয়াছ ও জমিলাসহ অন্য রোহিঙ্গারাও।
এদিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ-মিয়ানমার চুক্তি হয়েছে প্রায় ৫ বছর। কিন্তু এখন পর্যন্ত একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি মিয়ানমার। এরই মধ্যে গত ৬ বছরে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে রোহিঙ্গার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ লাখের বেশি।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহামুদুল হক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ সবসময় প্রত্যাবাসনকে রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র সমাধান বিবেচনায় নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। এ সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশ যে আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে, সেটি মিয়ানমারের কখনোই ছিল না।
তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় নিরাপত্তা পরিষদ, আইসিজেসহ আন্তর্জাতিক নানা ফোরাম থেকে মনোযোগ সরাতে মিয়ানমার প্রত্যাবাসনের বিষয়টি সামনে এনেছে। অতীতের ধারাবাহিকতায় দেশটির সদিচ্ছা আছে কি-না, সেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। ফলে মিয়ানমার এ মাসে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর যে প্রস্তাবটি দিয়েছে, সেটি ছলচাতুরি হতে পারে কি-না, সেটিও বিবেচনায় নিয়ে সতর্কভাবে এগোনোই সংগত হবে।
