পানি-ভাত খেয়ে সেহরি, কেউ পেয়েছে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ


পানি-ভাত খেয়ে সেহরি, কেউ পেয়েছে বাড়ি ছাড়ার নোটিশ
চারমাস ধরে বেতন পাচ্ছেন না এফডিসির ২২৩ কর্মকর্তা-কর্মচারী। ফলে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বলে জানিয়েছেন তারা। এরমধ্যে বাসাভাড়া দিতে না পারায় বাড়ি ছাড়ার নোটিশ পেয়েছে অনেকে, ইফতারিতে পানি ছাড়া অন্য কিছু জুটছে না অনেকের। সেহরির খাবার যোগাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঋণে জর্জরিত হয়ে অনেকে মারা গিয়েছেন বলেও জানা গেছে। এই পরিস্থিতে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মত হয়ে আসে অর্থমন্ত্রণালয়ের দেওয়া চিঠি। জানা গেছে এফডিসির এই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধিনস্ত, কিন্তু বেতন আসে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে। বেশ ক\'দিন আগে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়, এফডিসিকে নিজস্ব ইনকাম দিয়ে চলতে। এরপর আরও হতাশ হয়ে পড়েন কর্মচারীরা। হলের সংখ্যা কমেছে, ফলে কমেছে সিনেমা নির্মাণের সংখ্যাও। তাই লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারছে না চলচ্চিত্রের আঁতুড়ঘরএফডিসি। বছরের পর বছর লোকসান দিয়েই যাচ্ছে। এই লোকসান থেকে বের হওয়া আপাতত সম্ভব নয়। তাহলে কি বেতন না পাওয়া মাসের সংখ্যা আরও বাড়বে? এই প্রশ্নই নিয়েই এফডিসির এমডি নুজহাত ইয়াসমিনের সঙ্গে ফোনে বা দেখা করে কথা বলতে চাইলেও তিনি মুখে কুলুপ এটে বসেন। জানান, মিডিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে নারাজ তিনি। এফডিসিতে ৩৫ বছর চাকরি করছেন শরিফা বেগম। বেতন হয় না বলে তার কষ্টের শেষ নেই। তিনি বলেন, \'বেতন পাই না চার মাস। চাকরি করি বলে ছেলে মেয়েরাও টাকা দেয় না। এখন খুবই কষ্টে জীবন যাপন করছি। সেহরিতে শুধু পানি-ভাত খেয়ে রোজা রাখছি, ইফতারে একটা খেজুর কেনারও সামর্থ নেই। শুধু পানি দিয়ে ইফতার করি।\' এদিকে গত কয়েকমাস ধরে এফডিসি কর্তৃপক্ষ তথ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বেতনের জন্য অনুদান চাইলেও কোনো লাভ হয়নি। বাধ্য হয় এফডিসির কলাকুশলী ও কর্মচারিরা বৃহস্পতিবার ১১টায় এফডিসির এমডি নুজহাত ইসাসমিন বরাবর বেতন ভাতার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করে। এ সময় এফডিসির এমডি কলাকুশলী ও কর্মচারিদের সঙ্গে বৈঠকও করেন। তবে সে সময়ও একাধিক মিডিয়া উপস্থিত থাকলেও তাদের সঙ্গে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেন নুজহাত। এফডিসির কলাকুশলী ও কর্মচারী শ্রমিকলীগের (সিবিএ) পক্ষে থেকে স্মারকলিপি প্রদানের পর সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব বলেন, বেতন হওয়ায় আমাদের বাড়ি ভাড়া আটকে আছে, বাজার নেই, মুদি দোকানে বাকি করে খেতে হচ্ছে, অনেকে শুধু পানি খেয়ে রোজা রাখছেন। তাই বেতনর দাবি নিয়ে আমরা এমডি মহোদয়কে স্বারকলিপি দিয়েছি। তিনি আমাদের পক্ষে আছেন। তিনি আগামী সপ্তাহের মধ্যে একটা বিহিত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। এমডির আশ্বাসের আগামী এক সপ্তাহে যদি সমাধান না আসে তাহলে এফডিসির কলাকুশলী ও কর্মচারীরা কঠোর কর্মসূচিতে যাবেন বলে জানিয়েছেন। তবে এফডিসির এমডি এমন আশ্বাস রোজার আগেও দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। যা কেবল আশ্বাসেই রয়ে গেছে। বাস্তবায়ন হয়নি । সূত্রের খবর এফডিসিতে নির্মিতব্য ৩২২ কোটি টাকার বিএফডিসি কমপ্লেক্স চালু না হওয়া পর্যন্ত লোকসান থেকে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না এফডিসি। এর নির্মাণ কাজ শেষ হবে ২০২৫ সালের দিকে। এরপরই আগের মত বেতন ভাতা সহল হতে পারে কর্মচারীদের। আগে এফডিসির নিজস্ব আয় দিয়ে কর্মচারীর বেতন ও উৎসবে ভাতা দেয়া হত। এফডিসির জনযংযোগ কর্মকর্তা হিমাদ্রি বড়ুয়া জানান, ২০১২ সালের পর থেকে মাসিক কর্মচারীদের যে বেতন পরিশোধ করা হয় সেটি এফডিসির আয়ের চেয়ে অনেক বেশি। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে যোগান নেয়া হতো। “গত তিনমাস ধরে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে টাকা দেওয়া হয়নি। এ কারণে এমডি থেকে ঝাড়ুদার আমরা কেউ বেতন পাচ্ছি না। রমজান মাস চলছে, সামনে ঈদ বোনাস ও বৈশাখী ভাতা আছে। এফডিসির এমডি ও মন্ত্রী মহোদয় জানিয়েছেন শিগগির হবে, কিন্তু কবে হবে সেই তথ্য আমার কাছে নেই।” এফডিসির সঙ্গে জড়িতদের কর্মকর্তা কর্মচারীদের কেন এমন শোচনীয় অবস্থা জানতে চাইলে হিমাদ্রি বড়ুয়া বলেন, এফডিসিতে আগের মত শুটিং হয় না বলে আয় নেই। মাঝেমাঝে দু-চারটি বিজ্ঞাপনের শুটিং থেকে ৩০-৪০ হাজার টাকা হয়, যেখানে আগে মাসে ৮০ লাখ থেকে কোটি টাকাও হতো। “সবমিলিয়ে মাসে বেতন লাগে প্রায় ৮০ লাখ টাকা টাকা। কিন্তু এখন এফডিসিতেই কাজই তো হয় না তাহলে আয় হবে কীভাবে? অথচ আগে এফডিসির আয় প্রয়োজন মিটিয়ে উচ্ছিষ্ট অর্থ সরকারকে দেওয়া হতো। এফডিসিতে নতুন ভবনগুলো চালু হলে হয়তো আবার এখান থেকে আয় বাড়বে।”