বর্জ্য অপসারণ শুরু দুপুরে, প্যারিস মাঠে কোরবানি দিলে পুরস্কার
অনলাইন নিউজ ডেক্স
ঈদুল আজহার দিন দুপুর ২টা থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করবে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশন। এ উপলক্ষে দুই সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। মিরপুরের প্যারিস মাঠে কোরবানি দিলে বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসিস) জানিয়েছে, ঈদের দিন রাত ৮টার মধ্যে সকল কোরবানির বর্জ্য অপসারণ শেষ করবে। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) জানিয়েছে, ঈদের দিন শেষে রাত ২টার মধ্যে তারা বর্জ্য অপসারণের কাজ শেষ করতে পারবে। গত ঈদুল আজহায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের কাজ শেষ করেছিল বলে দুই সিটি করপোরেশনের দাবি। যদিও উত্তর সিটি করপোরেশন বলছে, ২৪ ঘণ্টায় বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা গতবার দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই তারা কাজ শেষ করতে পেরেছিল। এবার দুই সিটি করপোরেশনে বর্জ্য অপসারণের প্রায় অর্ধশত ডাম্প ট্রাক নতুন করে যুক্ত হয়েছে। এ জন্য এবার বর্জ্য অপসারণ কাজ আরও সহজ হবে। নির্ধারিত সময়ের আগেই তারা বর্জ্য অপসারণের কাজ শেষ করতে পারবে। এবার কর্মীর সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। ডিএসসিসির প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কর্মী কাজ করবে। ডিএনসিসির কাজ করবে প্রায় সাড়ে দশ হাজার কর্মী।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়, বর্জ্য অপসারণের কাজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় দক্ষিণ সিটির প্রতিটি অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকা থেকে অনলাইনে যুক্ত হবেন। অনলাইনে যুক্ত হবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। বেলা ২টায় অপসারণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
প্যারিস মাঠে কোরবানি দিলে পুরস্কার: ঢাকা উত্তর সিটির জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়, মিরপুরের প্যারিস রোড মাঠে কোরবানির জন্য জায়গা নির্ধারিত করা হয়েছে। ওই মাঠে যারা পশু জবাই করবেন, তাদের ডিএনিসিসি বিশেষ সহযোগিতা দেওয়া ছাড়াও এক হাজার টাকার আর্থিক প্রণোদনা দেবে। এর বাইরে ৭ নম্বর ওয়ার্ডেও অন্তত ১০০টি পশু একসঙ্গে কোরবানি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গোলারটেক মাঠে ঈদের জামাত শেষে ঢাকা উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম ওই মাঠে গিয়ে কোরবানির কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন। সেখান থেকে তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শনে যাবেন। পরিদর্শনের সময় যেকোনো ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সঙ্গে দুপুরে খাবার খাবেন। এরপর বেলা দুইটার দিকে যেকোনো একটি ওয়ার্ড এলাকা থেকে বর্জ্য অপসারণ কাজের উদ্বোধন করবেন। ডিএসিসি মেয়র অনলাইনে বর্জ্য অপসারণ কাজের উদ্বোধন করতে পারেন।
কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু: পাশাপাশি বর্জ্য অপসারণ তদারকিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ চালু করা হয়েছে। দক্ষিণ সিটির প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের শীতলক্ষ্যা হল থেকে এ নিয়ন্ত্রণকক্ষ পরিচালিত হবে। ঈদের দিন বেলা দুইটা থেকে পরদিন পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে মাঠে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয় করা হবে। এ ছাড়া বর্জ্য যথাসময়ে অপসারণ না হলে বাসিন্দারা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ০১৭০৯৯০০৮৮৮ এবং ০২২২৩৩৮৬০১৪ নম্বরে ফোন করে তথ্য ও অভিযোগ জানতে পারবেন।
যত্রতত্র চামড়া বিক্রি বন্ধে নিয়োজিত থাকবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট: এর বাইরে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের যত্রতত্র চামড়া বিক্রি বন্ধে ছয়জন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োজিত করা হয়েছে। কোরবানির পশুর হাট ও কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কাজ তদারকির জন্য দক্ষিণ সিটি কর্তৃপক্ষ ১০টি দল গঠন করেছে।
ডিএনসিসিও বর্জ্য অপসারণে নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করেছে। ১৬১০৬ নম্বরে কল করে নগরবাসী বর্জ্য সংক্রান্ত সমস্যার কথা জানাতে পারবেন। পাশাপাশি ওয়ার্ড ও অঞ্চলভিত্তিক তদারকি দলও গঠন করা হয়েছে।
