বিয়েতে দাওয়াত না দেয়ায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা


বিয়েতে দাওয়াত না দেয়ায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা
ফরিদপুরের সদরপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না দেয়াকে কেন্দ্র করে বিয়ে বাড়িতে হামলায় জেলা পরিষদ সদস্য, কনের বাবা ও খালুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরের দিকে উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের পূর্ব শৈলডুবি গ্রামে ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফের নাতনির বিয়ে উপলক্ষে দুপুরে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দুপুর ২টার দিকে ওই বাড়িতে আট-দশজন ব্যাক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় আহত হন জেলা পরিষদ সদস্য পূর্ব শৈলডুবি গ্রামের বাসিন্দা এখলাস আলী ফকির (৪৫), কনের বাবা সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফের ছেলে বাবুল মাতুব্বর (৫৫) ও কনের খালু বেলায়েত হোসেন (৫৩)। আহত এখলাস আলী ফকিরকে প্রথমে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে তাকে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থনান্তর করা হয়। তবে কনের বাবা বাবুল মাতুব্বর ও কনের খালু বেলায়েত হোসেনকে কোথায় ভর্তি করা হয়েছে এ ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারেনি পুলিশ। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৯নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফের বাড়িতে তার নাতনির বিয়ের অনুষ্ঠান ছিল। ওই অনুষ্ঠানে পাশের যাত্রাবাড়ি গ্রামের কাউকে দাওয়াত দেয়া হয়নি। এ নিয়ে যাত্রাবড়ি গ্রামের লোকদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। ওই এলাকার বাসিন্দারা জানায়, স্থানীয় অধিপত্য নিয়ে কৃষ্ণপুর ইউনিয়নে বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামানের সঙ্গে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল ফকিরের বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধে এখলাস আকতারুজ্জামানের সমর্থক ছিলেন। কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান আকতারুজ্জামান বলেন, এখলাস ফকির তার সমর্থক। তিনি তিনটি ইট ভাটার মালিক। দুর্বৃত্তরা দীর্ঘদিন ধরে তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। কিন্তু তিনি চাঁদা না দেয়ায় তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। যারা এখলাসের উপর হামলা করেছে তারা সবাই সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল ফকিরের সমর্থক। সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুব্রত গোপলদার বলেন, ‘বিয়ের অনুষ্ঠানে পাশের যাত্রবাড়ির লোকদের দাওয়াত না দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার সময় বরপক্ষ খাওয়া দাওয়া করছিল। হামলার পর তারা দ্রুত কনে নিয়ে চলে যায়। এলাকার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।’