মন্ত্রিসভায় যাদের প্রত্যাবর্তন
অনলাইন নিউজ ডেক্স
একাদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রিসভার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যই বাদ পড়েছেন নতুন মন্ত্রিসভা থেকে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের জন্য নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
৩৬ সদস্যের মন্ত্রিসভায় এবার নতুন যুক্ত হয়েছেন ১৯ জন। তবে এই ১৯ জনের মধ্যে রয়েছেন এমন পাঁচজন, যারা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভায় এর আগেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
মুহাম্মদ ফারুক খান, আবুল হাসান মাহমুদ আলী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবের হোসেন চৌধুরী ও নারায়ণ চন্দ্র চন্দ- মন্ত্রিসভায় পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে যে ২৫ জন শপথ নিয়েছেন, তাদের মধ্যেই রয়েছেন এই পাঁচজন। তারা এর আগে কোনো না কোনো সময় শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভার সদস্য ছিলেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তারা শপথ নিয়েছেন।
মুহাম্মদ ফারুক খান
ফারুক খান ছিলেন সামরিক কর্মকর্তা। লেফটেন্যান্ট কর্নেল পদে থাকা অবস্থায় অবসর নিয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যোগ দেন। দলের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য তিনি। এর মধ্যে ১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরপর থেকে ওই আসনে কোনো নির্বাচনেই তিনি পরাজিত হননি। দ্বাদশে ওই আসন থেকে টানা ষষ্ঠবারের মতো এমপি হয়েছেন তিনি।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয় ফারুক খানকে। ওই সময় মানুষকে কম খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। পরে তাকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর দশম ও একাদশ সংসদের মন্ত্রিসভায় আর স্থান হয়নি তার। দুই সংসদ বিরতির পর ফের মন্ত্রিসভায় স্থান করে নিলেন তিনি।
আবুল হাসান মাহমুদ আলী
আবুল হাসান মাহমুদ আলী ছিলেন একজন কূটনীতিক। বিভিন্ন কূটনৈতিক মিশনে তিনি সরকারের হয়ে সফলভাবে কাজ করেছেন। পরে দেশে থিতু হয়ে ২০০১ সালে যোগ দেন আওয়ামী লীগে। দলে কেন্দ্রীয় কমিটিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটি ও উপকমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো দিনাজপুর-৪ আসনে নির্বাচন করেন। সেবার তো বটেই, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন মিলিয়ে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।
২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে জিতে আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে। ওই মেয়াদে ২০১২ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় নতুন করে গঠন করা হলে মন্ত্রণালয়টির দায়িত্ব দেওয়া হয় আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে। পরে ২০১৩ সালের নভেম্বরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয় তাকে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভাতেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন তিনি। এবার তিনি মন্ত্রী হিসেবে পুরো পাঁচ বছর মেয়াদ পূর্ণ করেন। একাদশের মন্ত্রিসভায় জায়গা না পেলেও এক মেয়াদের ব্যবধানেই ফের মন্ত্রিসভায় ফিরলেন তিনি।
জাহাঙ্গীর কবির নানক
জাহাঙ্গীর কবির নানকের রাজনীতি শুরু ছাত্রলীগের মাধ্যমে। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। পরে যুবলীগের আহ্বায়কও ছিলেন। আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়ার পর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পর বর্তমানে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে রয়েছেন। জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ২০০৮ সালে, ঢাকা-১৩ আসন থেকে। ২০১৪ সালের নির্বাচনেও তিনি একই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে ২০১৮ সালে আসনটিতে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয় সাদেক খানকে। এবার ফের নানক ওই আসন থেকে তৃতীয়বারের মতো জয় পেয়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেয়েছেন।
২০০৮ সালের নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন নানক। এরপর আর দশমের মন্ত্রিসভায় স্থান হয়নি তার। একাদশে তো সংসদ সদস্যই ছিলেন না। দ্বাদশে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রিসভাতেও জায়গা করে নিলেন।
সাবের হোসেন চৌধুরী
ঢাকার দাপুটে রাজনীতিবিদ সাবের হোসেন চৌধুরী। আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক সচিব ছিলেন একসময়। ছিলেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি ছিলেন তিনি। ওই সময়ই বাংলাদেশ আইসিসির পূর্ণ সদস্যপদ ও টেস্ট স্ট্যাটাস পায়। ১৯৯৬ সালের জুনে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। আসন পুনর্বিন্যাসের পর ২০০৮ সাল থেকে ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য তিনি। এবার টানা চতুর্থবারের মতো এ আসনে তিনি জয় পেয়েছেন সংসদ সদস্য হিসেবে।
১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ প্রথমবার সরকার গঠন করলে সাবের হোসেন চৌধুরীকে ১৯৯৭ সালে নৌপরিবহণ উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর এক বছর পরই তাকে আবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় উপমন্ত্রী করা হয়। ওই সরকারের মেয়াদ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব পালন করেন। এর ২৩ বছর পর আবার মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন সাবের।
নারায়ণ চন্দ্র চন্দ
শিক্ষকতা দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা নারায়ণ চন্দ্র চন্দ আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন ১৯৬৭ সালে। থানা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব স্থানীয় পদে দায়িত্ব পালন করেছেন দীর্ঘ দিন। খুলনা জেলা কমিটির সদস্য তিনি। আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। ডুমুরিয়া উপজেলার ভান্ডারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে ছয় মেয়াদে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। পরে ২০০০ সালের ডিসেম্বরে খুলনা-৫ আসনে উপনির্বাচন হলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। এরপর ২০০১ সালের নির্বাচনে জিততে না পারলেও ২০০৮ সাল থেকে টানা এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে আসছেন তিনি।
২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আওয়ামী লীগ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করলে তাকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে তাকে একই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী করা হয়। একাদশ সংসদে আর মন্ত্রিসভায় জায়গা হয়নি তার। এক মেয়াদ বিরতি দিয়েই মন্ত্রিসভায় ফিরলেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবার নতুন এক সরকার দেশ পরিচালনার যাত্রা শুরু করেছে।
