মাগুরায় লিচুর বাম্পার ফলনে খুশি চাষিরা।


মাগুরায় লিচুর বাম্পার ফলনে খুশি চাষিরা।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় চলতি বছর মাগুরায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। লিচু পাকতে শুরু করায় প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কিনতে আসছেন ব্যাপারীরা। আর কাঙ্ক্ষিত দাম পেয়ে খুশি চাষিরাও। মাগুরা সদর উপজেলার হাজরাপুর, হাজীপুর ও রাঘবদাইড় ইউনিয়নের ইছাখাদা, মিঠাপুর, গাঙ্গুলিয়া, খালিমপুর, মির্জাপুর, পাকাকাঞ্চনপুর, বীরপুর, রাউতড়া, বামনপুর, আলমখালী, বেরইল, লক্ষ্মীপুর, আলাইপুর, নড়িহাটি সহ ২০টি গ্রামের চাষিরা গত দুই দশক ধরে বাণিজ্যিকভিত্তিতে এই লিচু চাষ করে আসছেন। এসব গ্রাম সহ আশপাশের প্রায় ৩০টি গ্রামে শুধু লিচু আর লিচুর বাগান। আকারে বড় আর সুস্বাদু হওয়ায় এই লিচুর চাহিদা দেশজুড়ে। চাষিরা জানান, লিচুতে রং ধরায় গাছ থেকে লিচু নামানো শুরু হয়েছে। কিছু লিচু স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তবে বেশির ভাগ লিচু বিক্রির জন্য ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া এবার লিচু বিক্রি করে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তারা। শুরু থেকে ফল ওঠা পর্যন্ত তিন ধাপে বিক্রি হয় লিচু বাগান। প্রথমে বাগান মালিকেরা এর পরিচর্যা করে, ফুলগুটি আসার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। তারপর বাগান গুলো পুনরায় বিক্রি হয়। পরে বাগানে পূর্ণ লিচু হলে সেটা বিক্রি করা হয় স্থানীয় বাজার সহ দেশের বিভিন্ন এলাকার লিচু ব্যবসায়ীদের কাছে। উপজেলার হাটহাজারী গ্রামের লিচু চাষী সিদ্দিক মোল্লা জানান, গেল কয়েক বছর লিচু ব্যবসায়ী ক্ষতি হয়েছে তবে এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকায় এবং নির্দিষ্ট সময় বৃষ্টিপাত না হাওয়ায় লিচু কাঙ্ক্ষিত আকারের চেয়ে কিছুটা ছোট হয়েছে তবে অন্য বছরের চেয়ে ফলন বেশি হওয়ার কারণে বেশি লাভের আশা করছেন। লিচু বাগানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন এলাকার ব্যাপারীরা চাষিদের কাছ থেকে অগ্রিম কিনে নেয়া বাগানে লিচু সংগ্রহের কাজ শুরু করেছেন। বাগানে বাগানে চলছে লিচু সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণের কাজ। এখানে বোম্বায়, চায়না থ্রী, মোজাফ্ফর ও স্থানীয় হাজরাপুরী জাতের লিচুর চাষ হয়ে থাকে। মৌসুমের শুরুতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যাপারী ফড়িয়া ও আড়তদারা এসে লিচুর বাগান কিনে তা গাছ থেকে ভেঙে ট্রাকে করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করছেন। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ ট্রাক লিচু এ এলাকা থেকে চালান হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিটি বাগান লক্ষাধিক টাকা দিয়ে কিনে তারা দেড় থেকে দুইগুণ মুনাফা অর্জন করেন। বর্তমানে প্রতি এক হাজার লিচুর পাইকারি দর পড়ছে ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা, যা স্থানীয় বাজারে হাজার প্রতি ২০০০ থেকে ২৫০০ টাকা খুচরা দরে বিক্রি হচ্ছে। এদিকে অন্য জাতের লিচু বাজারে আসার আগেই হাজরাপুরি জাতের লিচু বিক্রি শুরু হওয়ায় বাগান মালিকরা ভালো দাম পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক। তিনি বলেন, চলতি বছর জেলায় লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। এবার জেলায় ২০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হবে। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভের মুখ দেখবে। গোটা জেলায় প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার লিচু বাগান রয়েছে। যেখানে বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ করে। এসব গ্রামের প্রায় সহস্রাধিক কৃষক পরিবার আত্মনির্ভরতার পথ খুঁজে পেয়েছে। কৃষি বিভাগ নিয়মিত খোঁজ-খবর নেয়ার পাশাপাশি সব ধরনের সুবিধা চাষিদের দিচ্ছে।