মুন্সিগঞ্জে ক্লু-বিহীন জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন।


মুন্সিগঞ্জে ক্লু-বিহীন জোড়া খুনের রহস্য উদঘাটন।
মুন্সিগঞ্জে ক্লু-বিহীন জোড়া খুনের ঘটনার এক বছর পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ২০২২ সালের ০৮ মার্চ শ্রীনগর উপজেলার ব্রাহ্মণ পাইকশা এলাকা থেকে একটি ঝোপের মধ্যে লেপ চাদরে মোড়ানো অবস্থায় মা মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।পরে হত্যাকাণ্ডের কোনো আলামত না পাওয়ায়, শ্রীনগর থানার এসআই আপন কুমার মজুমদার বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। এরপর প্রায় একমাস পরে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে ২৫ এপ্রিল মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই।এ ঘটনায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নিহত রিম্পা খাতুনের স্বামী শাহীন পাহাড় (৩২) কে বৃহস্পতিবার (২৩ মার্চ) সকালে সাড়ে ৬ টার দিকে রাজধানী ঢাকার কদমতলী আবাসিক এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে মুন্সিগঞ্জের পিবিআই কার্যালয়ে নিয়ে আসা হলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসা বাদে হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন শাহীন। এরপর তার জবানবন্দী রেখে দুপুরে আড়াইটার দিকে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান,পিবিআই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনোয়ারুল হক।তিনি জানান, গেল বছর ৭ মার্চ শ্রীনগরের কামারগাঁও এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে শ্বাসরোধে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে শাহীন পাহাড়। পরে একইভাবে হত্যা করা হয় তাদের ৯ মাস বয়সী শিশু কন্যা আমেনাকে।পরে বাসায় তালা লাগিয়ে প্রথম স্ত্রী নার্গিস আক্তারের কাছে উপজেলার উত্তর বালাশুর এলাকায় চলে যায় শাহিন। এরপর রাতের আঁধারে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ভাড়ায় এনে ঘটনার দিন রাত ১০ টার দিকে লেপচাদরে মোড়ানো অবস্থায় মরদেহ দুটি উঠিয়ে ব্রাহ্মণ পাইকশা এলাকায় একটি ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়া হয়।এ ঘটনার ১০ দিন পর পুলিশ তদন্ত শুরু করলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান শাহীন। এরপর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় এক বছর পলাতক ছিলেন তিনি।অভিযুক্ত শাহিনের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পিবিআই পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রথম স্ত্রী নার্গিসকে না জানিয়ে রিম্পা খাতুনকে বিয়ে করেন শাহিন। পরে দ্বিতীয় স্ত্রীর ঘরে একটি কন্যা সন্তান হয়। বিষয়টি প্রথম স্ত্রী নার্গিস জানলে শুরু হয় পারিবারিক দ্বন্দ্ব। পরে দ্বিতীয় স্ত্রী রিম্পাকে পাবনায় তার বাবার বাড়িতে চলে যেতে বলেন শাহীন। এতে দ্বিতীয় স্ত্রী রিম্পা আপত্তি জানালে শুরু হয় কথা কাটাকাটি। এক পর্যায়ে তাকে হত্যা করা হয়।পিবিআই পুলিশ সুপার আরও জানান,পলাতক থাকা অবস্থায় রাজধানীতে তৃতীয় বিয়ে করে একটি বাড়াবাড়িতে বসবাস করছেন শাহীন,এমন তথ্য পায় পিবিআই। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে। গ্রেপ্তারকৃত শাহীন পাহাড়  শ্রীনগরের ভাগ্যকূল ইউনিয়নের উত্তর বালাসুর গ্রামের মৃত তৈয়ব পাহাড়ের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ট্রলিচালক। শাহিনের প্রথম স্ত্রীর ঘরে তিনটি সন্তান রয়েছে বলে জানায় পিবিআই।