মুন্সীগঞ্জের ব্যান্ডের ঔষধ স্প্রে করেও ঠেকানো যাচ্ছেনা আলু গাছের পচঁন চাষীদের মাথায় হাত।
অনলাইন নিউজ ডেক্স
মুন্সীগঞ্জের আলু জমিগুলোতে ব্যাপক আকারে আলু গাছে পচঁন রোগ ছাড়িয়ে পরেছে। ঘনঘন ঔষধ স্প্রে করেও রোগবালাই হতে রক্ষা পাচ্ছেনা আলু চাষিরা। ফলে দূর্ভোগ যেন কিছুতেই পিছু হটছেনা আলু চাষীদের। সরেজমিনে আজ সোমবার মুন্সীগঞ্জ সদর ও টঙ্গিবাড়ী উপজেলার বেশ কিছু আলু জমি ঘুরে দেখা গেছে জমির আলু গাছগুলোর পাতায় ঠোসা পরেছে। অনেক জমিতে আলু গাছের কান্ড পচেঁ গেছে। দামী দামী ব্যান্ডের ঔষধ ব্যবহার করেও রোগবালাইয়ের হাত হতে আলু গাছগুলোকে রক্ষা করতে পারছে না আলু চাষিরা।মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্রে জানাগেছে, এ বছর জেলায় মোট ৩৪ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছে।টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আউটশাহী, বলই,বালিগাওঁ, পাঁচগাঁও, মান্দ্রা, মুটুকপুর, ধীপুর, সদর উপজেলার বজ্রযোগীনি মামাসার, আটপাড়া, মহাকালী এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে বিস্তির্ন আলু জমির গাছগুলোর পাতায় ঠোসা পরে রয়েছে অনেক জামির আলু গাছের কান্ড পচেঁ গাছগুলো মাটিতে মিসে গেছে। কৃষক দামী দামী ব্যান্ডের ঔষধ স্প্রে করছেন। ঔষধ কোম্পানীর লোকজনের শিখানো অনুযায়ী তারা জমিতে ঔষধ স্প্রে করছেন। তারপরেও ছড়িয়ে পরেছে রোগবালাই। সাধারনত নামী দামী ঔষধের ব্যান্ডগুলোতে ১২/১৫দিন পর পর ঔষধ স্প্রে করার কথা বলা থাকলেও কৃষকরা প্রতি সপ্তাহে ঔষধ স্প্রে করছেন। ঔষধ স্প্রে ছাড়াও জমি পরিস্কার এবং জমিতে সেচ প্রয়োগ কাজে ব্যাস্ত সময় পার করছেন তারা।বলই গ্রামের কৃষক মনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতি সপ্তাহেই ঔষধ স্প্রে করছি। তারপরেও আলু গাছে রোগ বেড়েই চলছে। ঔষধ কোম্পানীর লোকজন জমিতে এসে বিভিন প্রদ্ধতিতে ঔষধ স্প্রে করতে পরামর্শ দিচ্ছে আমরা তাদের শিখানো প্রদ্ধতিতে ঔষধ স্প্রে করছি কিন্তু তারপরেও রোগ বালাই বেড়েই চলছে।বজ্রযোগীনি গ্রামের কৃষক মোঃ মনির হোসেন বলেন, জমিতে ঔষধ দিয়েই চলছি। কিন্তু রোগ বালাইতো কিছুতেই থামছে না । বাজারের সবচেয়ে দামি ঔষধ ২৫০ গ্রাম ৯০০টাকায় কিনে জমিতে দিলাম তারপরেও রোগবালাই বেড়েই চলছে।এর আগে এ বছর আলু চাষ করতে গিয়ে মুন্সীগঞ্জের কৃষক দুদফা বৃষ্টিপাতের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একদিকে আলু বীজ পঁচে নষ্ট হয় অন্যদিকে বৃষ্টিপাতের কারণে আলু চাষ এক মাসের অধিক সময় বিলম্ব হয়। আলু চাষের জন্য নভেম্বর মাস উত্তম সময় হলেও এ বছর জানুয়ারি মাসের অর্ধেক সময় পর্যন্ত জমিতে আলু চাষ করতে দেখা গেছে কৃষকদের।এ ব্যাপারে মুন্সীগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডা. মো. আব্দুল আজিজ বলেন, এ বছর আমাদের লক্ষ্যমাত্রা চেয়েও বেশি ৩৪ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমিতে মুন্সীগঞ্জে আলু আবাদ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্যমাত্র ছিলো ৩৪ হাজার ৩৪৬ হেক্টর। যখন মুন্সীগঞ্জে আবহাওয়া খারাপ ছিলো ঘন কুয়াসা ও মেঘাচ্ছন্ন আবাহাওয়া ছিলো তখন আমাদের আলু গাছের গ্রো তেমন না থাকায় রোগ বালাই কিন্তু গাছগুলোকে আক্রান্ত করতে পারেনাই। এখোন আবহাওয়া ভালো কিন্তু তারপরেও যদি রোগবালাই বা পচঁন রোগে আলু গাছ আক্রান্ত হয় তাহলে একরোভেড এমজেড অথবা সিকিউর জাতীয় ঔষধগুলো সপ্তাহে একবার ভালোভাবে পুরো আলু গাছ ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে। আর যদি গাছ পচঁন রোগে আক্রান্ত না হয় তবে ডায়থেনএম-৪৫, একরোভেট এম-৪৫ জাতীয় ঔষধগুলো স্প্রে করতে হবে।
