মুন্সীগঞ্জের ৩টি আসনে নৌকা পেলেন যারা।
অনলাইন নিউজ ডেক্স
আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মুন্সীগঞ্জের তিনটি আসনের মধ্যে ২টি আসনে নৌকা প্রতিক পেয়েছেন বর্তমান দুই সংসদ সদস্য। মুন্সীগঞ্জ-১ আসন (সিরাজদিখান ও শ্রীনগর) উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটিতে নতুন মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সিরাজদিখান উপজেলা চেয়ারম্যান সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদকে। ওই আসনটিতে বর্তমানে আওয়ামী লীগের জোট সঙ্গি বিকল্পধারার মাহি বি.চৌধুরি সংসদ সদস্য হিসাবে রয়েছেন। কিন্তু এ বছর ওই আসনে নতুন করে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতিকে মনোনয়ন দেওয়া হলো মহিউদ্দিন আহম্মেদকে। এ ছাড়া মুন্সীগঞ্জ-২ আসন ( লৌহজং-টঙ্গিবাড়ী) উপজেলা নিয়ে গঠিতে আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বর্তমান সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলিকে। মুন্সীগঞ্জ ৩ আসনে টানা তৃতিয়বারের মতো মনোনয়ন পেয়েছেন আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বর্তমান সংসদ সদস্য এডভোকেট মৃনাল কান্তি দাস।
মুন্সীগঞ্জ জেলার ৬টি উপজেলা, ৬৮টি ইউনিয়ন ও ২টি পৌরসভায় সর্বমোট ভোটারের সংখ্যা ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ লাখ ৯৪ হাজার ২৫৫ জন ও মহিলা ভোটার ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৪৪১ জন। পুরো জেলায় একজন মাত্র তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। তৃতীয় লিঙ্গের ওই ভোটার মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের অধীনস্ত শ্রীনগর উপজেলার ভোটার।
মুন্সীগঞ্জে-১ (সিরাজদিখান ও শ্রীনগর) উপজেলা নিয়ে গঠিত মুন্সীগঞ্জ-১ আসন থেকে এবার আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পেয়েছেন মহিউদ্দিন আহম্মেদ। তিনি সিরাজদিখান উপজেলা পরিষদের ৩ বার নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যান ও সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এছাড়া তিনি সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের পাঁচবারের নির্বাচিত সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তিনি ১৯৮৪ সালে প্রথম মালখানাগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তরুণ বয়স হতেই তার এলাকায় জনপ্রিয়তা তুঙ্গে উঠে। পাঁচবার একটানা তিনি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৮ সাল থেকে সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ব্যক্তিগত জীবনে ‘তিনি ২ ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তার সহধর্মিনী সানজিদা আক্তারও মালখানগর ইউনিয়ন পরিষদের দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। তিনি ১৯৯৫-৯৬ অর্থবছরে মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রেষ্ঠ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পদক পেয়েছিলেন।মুন্সীগঞ্জ ২ আসন ( লৌহজং-টঙ্গিবাড়ী ) উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনটিতে টানা ষষ্ঠবারের মত আবারো দলিয় মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সংদস্য সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি । ২০০৮ সালের প্রতিদ্বন্দীতাপূর্ণ নির্বাচনে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী মিজানুর রহমান সিনহাকে হারিয়ে মুন্সীগঞ্জ ২ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি। এরপর আর তাকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালেও শক্ত কোন প্রতীদ্বন্দী ছাড়াই আওয়ামী লীগের টিকিট পেয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হন এমিলি। টানা ৩ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকায় এলাকায় বাড়তি জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পেরেছেন এমিলি। সর্বশেষ ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে এলাকায় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে ভালো অবস্থানে রয়েছেন বলে মনে হলেও শেষ পর্যন্ত এমিলিকেই বেঁছে নেয় আওয়ামী লীগ। ২০২০ সালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মাহবুবে আলম মারা গেলে এলাকায় তার প্রতিদ্বন্দী একেবারেই শূণ্য হয়ে পড়ে। এমিলি প্রথম ১৯৯৬ সালে প্রথম সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য মনোনীত হয়েছিলেন। ২০০১ সালে মুন্সীগঞ্জ ২ আসন থেকে এমিলিকে আওয়ামী লীগ মনোনীত করলেও বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান সিনহার বিরুদ্ধে নির্বাচন করে হেরে যান তিনি। ২০০৮ সালে মোট ভোটের ৫৩ শতাংশ ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী মিজানুর রহমান সিনহাকে হারিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এমিলি। ২০১৪ সালে বিএনপি ভোট বর্জন করলে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহবুব উদ্দিন আহমেদকে হারিয়ে প্রায় ৯৪ শতাংশ ভোট পেয়ে আওয়ামী লীগ থেকে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলি। ১৯৯১, ১৯৯৬ ফেব্রুয়ারি (ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন), ১৯৯৬ জুন (সপ্তম) জাতীয় সংসদ নির্বাচন) ও ২০০১ সালে আসনটি বিএনপির দখলে ছিলো।মুন্সীগঞ্জ-৩ ( মুন্সীগঞ্জ সদর ও গজারিয়া) উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনে টানা তৃতীয়বারের মত মনোনয়ন পেয়েছেন এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস। ২০১৪ সালে বিএনপি ভোট বর্জন করলে ওই বছর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস। এরপর ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বীতিয়বারের মত আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে বিএনপির প্রার্থী আব্দুল হাইয়ের বিপরীতে ৭৫.২৩% শতাংশ ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মৃণাল কান্তি দাস। এর আগে, ২০০৮ সালে এই আসনে বিএনপির প্রার্থী এম শামসুল ইসলামকে হারিয়ে আওয়ামী লীগ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এম ইদ্রিস আলী। ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে আসনটি বিএনপির দখলে ছিলো। মৃণাল কান্তি দাস সংসদ সদস্য হওয়া ছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে টানা ১৩ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তিনি আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক। দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভক্তি থাকলেও বিএনপির ঘাটি হিসেবে পরিচিত আসনটিতে সাধারণ ভোটারদের মন জয় করতে পেরেছেন ‘ক্লিন ইমেজের’ মৃণাল কান্তি দাস। অনিয়ম- দুর্নীতি বা স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নেই তার বিরুদ্ধে।এ ব্যাপারে এডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস বলেন, আমি এবার নির্বাচিত হলে প্রথমেই মুন্সীগঞ্জ হতে ঢাকা যাওয়ার প্রধান সড়ক পঞ্চবটি-মুক্তারপুর সড়ক যেটি এক্রপ্রেসওয়েতে নির্মাণ কাজ চলছে ওই সড়কের কাজ দ্রুত শেষ করব। মুন্সীগঞ্জে পদ্মা এবং মেঘনার ভাঙ্গন যে এলাকাগুলোতে রয়েছে সেখানে স্থায়ী বাধ নির্মাণের চেষ্টা করব। মুন্সীগঞ্জ নাগরিক জীবনে যে সমস্ত সমস্যাগুলি আছে তা নিরসন করতে সচেষ্ট থাকব। মুন্সীগঞ্জে একটি পাবলিক ইউনিভার্সিটি একটি পাবলিক মেডিকেল কলেজ, টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট ইত্যাদি বাস্তবায়নে সক্রিয় থাকব। তিনি আরো বলেন, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের জনগণের কাছে আমার আকুল আবেদন তারা আমারে প্রতিটি নির্বাচনই আমাকে বেঁছে নিয়েছে। আমি আমার সংসদ সদস্য থাকাকালিন দশ বছর দায়িত্ব পালনকালিন সময় তাদের প্রতি ভালোবাসা দরদ মমত্ববোধ নিষ্ঠা আন্তরিকতা দেশপ্রেম সবটাই ছিল আমার কর্মকাণ্ডে দেখিয়েছি। কোন মানুষ কষ্ট পেতে পারে এমন কোন কাজ আমি করি নাই। সন্ত্রাস মাদককে ঘৃণা করেছি সে কারণেই জনগণের কাছে আমার আকুল আবেদন থাকবে তারা যেন আমাকে ভোট দিয়ে পুনরায় নির্বাচিত করে।
