হরিণাকুণ্ডুতে পুলিশ নিজ কর্মস্থলে ফিরে পুনরায় কর্মে যোগদান করায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অভিনন্দন
অনলাইন নিউজ ডেক্স
ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুু থানায় কর্মরত পুলিশগন পুনরায় নিজ কর্মস্থলে যোগদানের মাধ্যমে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনে সক্রিয় হওয়ায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন হরিণাকুণ্ডু শাখার পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্বে গত ৮ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধান মন্ত্রীর পদ হতে পদত্যাগ করার পর থেকেই দেশের অন্যান্য থানার মত হরিনাকুণ্ডু থানা পুলিশও তাদের সকল কার্যক্রম বন্ধ রেখে কর্মবিরতি শুরু করেন। এতে সাধারণ জনগণ পুলিশের সেবা না পেয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হয়। দীর্ঘ কর্মবিরতির পর গতকাল ১২ আগস্ট সোমবার হরিনাকুণ্ডু থানার পুলিশ সল্প পরিসরে কার্যক্রম শুরু করেন। পলিশ কার্যক্রম শুরু করায় খুশি হয়ে হরিণাকুণ্ডুর বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে পুলিশ বাহিনীকে অভিনন্দন জানিয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করা হয়। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক শুভ ও রিয়াদ হোসেনের নেতৃত্বে থানা পুলিশকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। হরিণাকুণ্ডুু উপজেলা সুন্দর করে গড়ে তুলতে প্রশাসনের সকল কর্মকান্ডে পরামর্শ, সহযোগিতা ও দায়িত্বের সাথে পাশে থাকতে চায় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এসময় বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ৮ দফা দাবি পেশ করা হয়। দাবীগুলো ১। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় পর্যন্ত সকল অফিস দুর্নীতিমুক্ত ঘোষণা করতে হবে। সকল অফিসের সামনে “ইহা দুর্নীতিমুক্ত অফিস” লেখা সাইনবোর্ড প্রদর্শন করতে হবে। ২। উল্লেখযোগ্য দুর্নীতিগ্রস্থ প্রতিষ্ঠান (সাব-রেজিস্ট্র, এসিল্যান্ড, বিআরটিএ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাসপোর্ট অফিস)-এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে অলাভজনক ভিত্তিতে তদারকি কমিটি করতে হবে। ৩। উপজেলা প্রশাসক পদাধিকার বলে সভাপতি এমন প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি দুর্বল ও দুর্নীতিগ্রস্থ্য বলে আমাদের বিবেচনা। উল্লেখ্য শিল্পকলা, শিশু একাডেমী, ক্রীড়া সংস্থা, পাবলিক লাইব্রেরী প্রভৃতি। এই সকল অফিসের দুর্বলতা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। ৪। স্বৈরাচার পতনের পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি, স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয়সহ সকল তথ্য দ্রুত সংগ্রহ করে যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন নিশ্চিত করা। ৫। বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন বর্তমান চলমান সংকট নিরসনে বিভিন্ন কর্মকান্ড পরিচালনা করেছে। এক্ষেত্রে ছাত্রদের সাথে সার্বক্ষনিক পুলিশি সহায়তা প্রয়োজন। এজন্য সাব-ইন্সপেক্টের নেতৃত্বে একটি টিম প্রতিনিয়ত ছাত্রদের সাথে থাকার জন্য ব্যবস্থা করা ৬। দীর্ঘদিন যাবৎ পুলিশ বাহিনীর কর্মকান্ডে ছাত্র জনতার যে নেতিবাচক ধারনা তৈরী হয়েছে তা আপনার অবস্থান থেকে দৃশ্যমান পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া। ৭। হরিণাকণ্ডু উপজেলার সকল সড়কের নিরাপত্তার প্রয়োজনে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহন। বিশেষ করে শহরে ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু, শব্দ দূষণ প্রতিরোধ, গাড়ি চালকের প্রশিক্ষণসহ নানা অর্থবহ কার্যকর উদ্যোগ গৃরহন। ৮। হরিণাকণ্ডুু উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস গঠনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতার আহ্বান করা হয়। হরিণাকুণ্ডুু থানা অফিসার ইনচার্জ জিয়াউর রহমান উক্ত দাবি উত্থাপনের জন্য ছাত্রনেতৃবৃন্দকে সাধুবাদ জানিয়ে সর্বাত্বক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদা ন করেন।
