১১ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ’ এমপি এনামুল হকের


১১ লাখ টাকা ‘আত্মসাৎ’ এমপি এনামুল হকের
রাজশাহীর দুর্গাপুর পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে দলের মনোনয়ন পেতে সংসদ-সদস্য (এমাপি) ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হককে দুই দফায় ১১ লাখ টাকা দিয়েছিলেন উপজেলা কৃষক লীগের সহসভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। তবে সংসদ-সদস্য এনামুল তাকে মনোনয়ন পাইয়ে দিতে পারেননি। পরে অনেকবার ঘুরিয়েও টাকাও ফেরত দেননি। শেষ পর্যন্ত টাকা উদ্ধারে জাহাঙ্গীর আলম ১৩ জুন ঢাকায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সংসদ-সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, এই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমি জাহাঙ্গীর আলম নামের কাউকে চিনি না। আমি মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলে কারও কাছ থেকে টাকাও নিইনি। তবে সংসদ-সদস্য চেনেন না বলে দাবি করলেও তার সঙ্গে জাহাঙ্গীরের দেখা-সাক্ষাতের ঘনিষ্ঠ কিছু ছবি পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এসব ছবি রয়েছে। এদিকে অভিযোগ গ্রহণ করে বিষয়টি সমাধানে দলের সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেনকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে জানা গেছে। কিন্তু সংসদ-সদস্য এনামুল এখনো টাকা ফেরত দেননি। জাহাঙ্গীর আলমের বাবা দুর্গাপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল মোতালেব অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওবায়দুল কাদের সাহেবের কাছে অভিযোগ দেওয়ার সময় আমিও ছিলাম। আমরা সংসদ-সদস্য এনামুলের কাছ থেকে টাকাটা ফেরত চেয়েছি। উনি ব্যবস্থা নেবেন বলেছেন। জানা যায়, কৃষক লীগ নেতা জাহাঙ্গীর ২০২১ সালের ১ মার্চ অনুষ্ঠিত দুর্গাপুর পৌরসভার মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। বিভিন্ন জনের পরামর্শে তিনি সংসদ-সদস্য এনামুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এনামুল তাকে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। এজন্য জাহাঙ্গীরের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন। এরপর ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখা থেকে ১০ লাখ টাকা তুলে জাহাঙ্গীর ২০২১ সালের ২৮ জানুয়ারি সংসদ-সদস্য এনামুলের পান্থপথের ব্যবসায়িক কার্যালয় এনা টাওয়ারে গিয়ে টাকা হস্তান্তর করেন। জাহাঙ্গীর অভিযোগে বলেন, আমি যখন সংসদ-সদস্য এনামুলকে ১০ লাখ টাকা দিই, তখন রাজশাহী জেলা শাখা বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি ইকবাল হোসেন ও দুর্গাপুরের মাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল হক সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তাদের সামনেই আমার কাছ থেকে টাকা বুঝে নেন এনামুল। কিন্তু আমি মনোনয়ন পাইনি। পরে সংসদ-সদস্য এনামুলকে ফোন দিলে তিনি বলেন, চিন্তা কর না। আমি তো আছি। আমি বিষয়টি দেখছি। জাহাঙ্গীর আরও বলেন, সংসদ-সদস্যের ওই কথা শোনার পর টাকা ফেরত পাওয়ার আশায় থাকি। কিন্তু তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে দিনের পর দিন ঘুরাতে থাকেন। পরে তিনি বলেন, তোমার ওই টাকা আমি কেন্দ্রীয় নেতাদের দিয়ে দিয়েছি। আমি কোথা থেকে টাকা ফেরত দেব। তুমি বরং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপ্রত্যাশী কাউকে সংগ্রহ করে দাও। তাকে মনোনয়ন পাইয়ে দেব। ওখান থেকে যে টাকা পাব, সেটা তোমাকে ফেরত দেব। জাহাঙ্গীর আলম আরও উল্লেখ করেন, ২০২২ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফশিল হলে দুর্গাপুরের মাড়িয়া ইউনিয়নে আব্দুল হককে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন পাইয়ে দেবেন বলে সংসদ-সদস্য এনামুল হক আশ্বস্ত করেন। তিনি বলেন, আব্দুল হকের মনোনয়নে কোনো টাকা লাগবে না। সে মনোনয়ন পেলে তার কাছ থেকে তুমি ১০ লাখ টাকা নিয়ে নিও। শুধু দপ্তর সম্পাদককে এক লাখ টাকা দিতে হবে। পরে সংসদ-সদস্য আরও এক লাখ টাকা নেন। তবে শেষ পর্যন্ত আব্দুল হকও মনোনয়ন পাননি। দুর্গাপুরের মাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আব্দুল হক বলেন, আমার সামনেই সংসদ-সদস্য এনামুলকে ১০ লাখ এবং পরে আরও এক লাখ টাকা দেওয়া হয়েছিল। জাহাঙ্গীরও মনোনয়ন পাননি, আমিও পাইনি। আমরা প্রতারিত হয়েছি। আমরা কিছু চাই না, শুধু টাকাটা ফেরত চাই। রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে আমাকে সমাধানের জন্য দলের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি। যদি বলা হয় আমি দেখব।