২ হাসপাতালের অর্ধেকই ফাঁকা


২ হাসপাতালের অর্ধেকই ফাঁকা
সারা দেশের ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা জ্যামিতিক হারে বাড়ছে। তবে রাজধানীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভিড় জমাচ্ছেন রোগীরা। ঢাকা মেডিকেলসহ বেশ কিছু হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ধারণক্ষমতার তিল পরিমাণ জায়গা নেই। অথচ উলটো চিত্র দেখা গেছে রাজধানীর ডিএনসিসি ও কুর্মিটোলা হাসপাতালে। ডেঙ্গু রোগীদের যথেষ্ট শয্যার ব্যবস্থা থাকলেও সে পরিমাণ রোগী নেই এ দুটি হাসপাতালে। প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষায় আছেন চিকিৎসকরা। ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতাল হিসাবে ঘোষিত ঢাকার মহাখালীর ডিএনসিসি হাসপাতাল। দেশে ডেঙ্গু প্রকট আকারে বিস্তার বাড়ায় করোনা রোগীর পাশাপাশি মশাবাহিত এ রোগের চিকিৎসা দিচ্ছে রাজধানীর ডিএনসিসির এই হাসপাতালে। রোববার দুপুরে ওই হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচ ফ্লোরে মোট ২৬০ জন রোগী ভর্তি আছেন। তার মধ্যে ২৪৬ ডেঙ্গু রোগী রয়েছে। এর মধ্যে ৫ জন কোভিড আক্রান্তসহ অন্যান্য রোগী। ডেঙ্গু রোগীর মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ, ৮৭ জন নারী ও ৬৩ জন শিশু। গত ২৪ ঘণ্টায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় ৮৭ জন নতুন ভর্তি হয়েছে। ৬২ জন সেবা নিয়ে বাসায় চলে গেছেন। রায়েরবাগ থেকে নাইমা নামে এক রোগী এসে ভর্তি হন এদিন সকালে। গত বৃহস্পতিবার থেকে জ্বরে ভুগছেন জানিয়ে তিনি বললেন, পরীক্ষার পরে দেখি প্লাটিলেট কমে গেছে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। রাজধানীর মুগদার বাসিন্দা ইমরান হোসেন তার ছেলেকে ভর্তি করিয়েছেন ডিএনসিসি হাসপাতাল। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু ধরা পড়ার পর ছেলেকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে গিয়েছিলাম। সেখানে সিট খালি না থাকায় ডাক্তার এখানে পাঠিয়েছেন।’ পরিচিত একজনের কাছে এ হাসপাতালের কথা শুনে অসুস্থ স্ত্রীকে ভর্তি করিয়েছেন মোহাম্মদপুরে মুসতাক আহমেদ। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রীর ডেঙ্গু হওয়ার পর দুদিন বাসায় রেখেই চিকিৎসা করাচ্ছিলাম। অবস্থা একটু খারাপ হওয়ায় ডাক্তার বললেন এখানে ভর্তি করাতে।’ ডিএনসিসি হাসপাতালে ভারপ্রাপ্ত পরিচালক কর্নেল একেএম জহিরুল হোসাইন খান বলেন, এই হাসপাতালে রোগীদের জন্য ৫৭০টি শয্যা প্রস্তুত রাখা আছে। কিন্তু ভর্তি আছেন ২৪৬ ডেঙ্গু রোগী। আউটডোরে সার্বক্ষণিক ডেঙ্গু রোগী দেখছেন দুজন। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টা রোগী ছিল ৩৪৫ জন রোগী সেবা নিয়েছে। তিন শিফটে এই রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে। একসঙ্গে বেশি রোগী এলে একটু চাপ হয়ে যায়। পরে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। অন্যান্য হাসপাতালে রোগী সংকুলন না হলে অনেক হাসপাতাল এখানে রেফার করেন। রোগীর চাপ বেশি থাকলে শয্যার আরও বৃদ্ধি করা হবে। জনবলেরও প্রয়োজন আছে। তবে এ ব্যাপারে আলাপ চলছে। এদিকে রোববার দুপুরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু ওয়ার্ডে বর্তমানে মোট ১৬২ জন রোগী ভর্তি আছেন। এদিন ৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। সেবা নিয়ে চলে গেছে ৬৫ জন। একজনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর জানুয়ারি থেকে এই পর্যন্ত ৭৭৪ জন রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তার মধ্যে জুন মাসে ৮৩ জন আর জুলাই মাসে ৬১১ ভর্তি হয়েছে। মিরপুর থেকে আসা ১০৪ নম্বর বেডে ভর্তি আব্দুল মালেক। তিনি বেশ কয়েক দিন ধরে জ্বর ও মাথাব্যথা এবং খাবারের রুচি নেই। তাই টেস্ট করার পর রিপোর্টে ডেঙ্গু পজিটিভ আসে। তাই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। বরিশাল থেকে আসা রেজাউল নামে মধ্য বয়স্ক এক ডেঙ্গু রোগী। তিনি এখন প্রায় সুস্থ। কাল-পরশুর মধ্যে বাড়ি চলে যাবেন। তিনি বলেন, এখানে চিকিৎসাসেবার মান খুব ভালো ও খরচও কম। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমাদের হাসপাতালে মোট ৫০০ বেডের শয্যা রয়েছে। তার মধ্যে একটা ছয়তলার ফ্লোরকে ডেঙ্গু ডেডিকেটেড করেছি। পুরো হাসপাতলে ভর্তির রোগী ৫৬২ জন রয়েছে। তবে হাসপাতালে ৭০০-৮০০ পর্যন্ত ভর্তি রোগী রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এটা পরিস্থিতি ও রোগীর চাপের ওপর নির্ভর করে। বর্তমানে আমরা ডেঙ্গুকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। মেডিসিন ওয়ার্ডকে আমরা ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রূপান্তরিত করেছি। এসব রোগীর জন্য আমরা এখন ৩২৫ বেড প্রস্তুত রেখেছি। বর্তমানে ১৬২ জন ভর্তি রয়েছে। ডেঙ্গু রোগীদের সব ধরনের সেবা দিতে আমরা প্রস্তুত। ডেঙ্গুর প্রায় শতভাগ খরচ এই হাসপাতাল বহন করছে। যে হাসপাতাল কোভিডের রোগী মোকাবিলা করেছে এটা কোনো চাপ বলে মনে হয় না। ডাক্তার ও নার্সরা সার্বক্ষণিক ওয়ার্ডে রাউন্ড দিচ্ছে।