নূরে আলম সিদ্দিকী আর নেই
অনলাইন নিউজ ডেক্স
মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, সাবেক ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক এবং সাবেক সংসদ-সদস্য নূরে আলম সিদ্দিকী (৮৩) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)।
বুধবার ভোরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ষাটের দশকের এই ছাত্রনেতা। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
এছাড়া শোক জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য, ১৪ দলের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপিসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, রাজনৈতিক দলের নেতা এবং শ্রেণি-পেশার মানুষ।
ঝিনাইদহ ও ঢাকায় জানাজা শেষে শেষ ইৃচ্ছ অনুযায়ী সাভারে নিজের তৈরি মসজিদের পাশে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। নূরে আলম সিদ্দিকী ১৯৪০ সালের ২৬ মে জন্মগ্রহণ করেন। ’৬২ সালের ছাত্র আন্দোলন, ৬ দফা আন্দোলন ও বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনসহ তৎকালীন সব রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। ১৯৭০ সালে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন।
স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়কও ছিলেন তিনি। ১৯৭৩ সালে প্রথম দাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসাবে তৎকালীন যশোর-২ আসনের সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের সপ্তম ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র প্রার্থী মরহুম মসিউর রহমানের কাছে পরাজিত হন। সেই থেকে অভিমান ভর করে তাকে।
দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়কার চারজন ছাত্রনেতার মধ্যে তিনি ছিলেন অন্যতম। যে কারণে চার খলিফার একজন হিসাবে পরিচিতি ছিল তার। গণতন্ত্র এবং স্বাধীনতা নিয়ে লিখেছেন বই। কথা বলেছেন গণমাধ্যমে। অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি। ঘনিষ্ঠজনরা জানান, অজানা অভিমানে নিজ পৈতৃক বাড়িতে সাম্প্রতিক সময়ে আসেননি। দুই বার ঝিনাইদহ-২ আসন দখলে রেখেছেন বড় ছেলে তাহজীব আলম। তার মৃত্যুতে ঝিনাইদহে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে গুলশানে তার কফিন নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স এলে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার জানাজায় অংশ নিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, ব্যবসায়ী, বিভিন্ন পেশা ও শ্রেণির মানুষজন উপস্থিত হন।
নূরে আলম চৌধুরী গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদ (আজাদ মসজিদ) ও ঈদগাহ সোসাইটির সভাপতি ছিলেন। মরহুমের স্মরণে ১ এপ্রিল এই মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।
জানাজা শেষে জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, নূরে আলম সিদ্দিকী ’৬০-এর দশকে জাতিকে তার বক্তৃতায় উজ্জীবিত করেছিলেন। গণতন্ত্রের প্রতি তার অসীম বিশ্বাস ছিল। ১৯৭৫ সালে যখন বাকশাল করা হয়, তখন যে তিনজন পদত্যাগ করেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম রাজনৈতিক নেতা ছিলেন নূরে আলম সিদ্দিকী। এই দেশ-জাতি যতদিন থাকবে নূরে আলম সিদ্দিকী তাদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন।
জানাজার আগে নূরে আলম সিদ্দিকীর বড় ছেলে তাহজীব আলম সিদ্দিকী তার পিতার জন্য সবার দোয়া চেয়ে বলেন, আমার বাবা আপসহীন ছিলেন। তিনি যেটা বিশ্বাস করছেন সেটাই করতেন।
আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ করব সেই নূরে আলম সিদ্দিকীকেই মনে রাখবেন, যিনি কখনো তার নিজের বিশ্বাস ও আদর্শের সঙ্গে আপস করেননি। জানাজা শেষে সাভারের জিরানী বাজার এলাকায় লাশ নেওয়া হয়। সেখানে নিজের তৈরি করা মসজিদ প্রাঙ্গণে দাফন করা হয় তাকে।
