খুলনায় হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন


খুলনায় হত্যা মামলায় দুইজনের যাবজ্জীবন
খুলনার তেরখাদার উপজেলার পলাশ শেখ ওরফে সবুজ হত্যা মামলায় দুইজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রোববার খুলনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. আমিরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- তেরখাদা উপজেলার বারাসাত গ্রামের তকুব্বর ফকিরের ছেলে রোমান ফকির ও আড়পাঙ্গাসিয়া গ্রামের মহিউদ্দিন মোল্লার ছেলে মিলু মোল্লা। রায় ঘোষণার সময় দুই আসামি পলাতক ছিলেন। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অন্য দুই আসামি মুরাদ শরীফ ও খসরু মোল্লাকে খালাস দেওয়া হয়েছে। মামলা সূত্রে জানা যায়, মিলু মোল্লার বাড়িতে পলাশের প্রায় যাতায়াত ছিল। এ কারণে মিলু মোল্লা তার স্ত্রী রিক্তা বেগম ও পলাশকে সন্দেহ করতেন। ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর রাত ৯টায় বাড়ি থেকে পলাশকে ডেকে নেন মিলু মোল্লা। এরপর থেকে অনেক খোঁজ নেওয়ার পর পলাশের কোনো খোঁজ যায়নি। পরবর্তীতে পলাশের পরিবার গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে আসামি মিলু মোল্লা তার স্ত্রীর অবৈধ প্রেমকে ঠেকানোর জন্য অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় বারাসাত গ্রামের উত্তর পাশে বিলে নিয়ে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। এ ঘটনার পর থেকে আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। ঘটনার প্রায় এক বছর পর ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর পলাশের মা বেগম বিবি বাদী হয়ে চারজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় রোমান ফকির গ্রেপ্তার হয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। ২০১১ সালের ১৮ এপ্রিল পলাশের কঙ্কাল উদ্ধার করে পুলিশ। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এম ইলিয়াস খান জানান, ২০১২ সালের ১৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেরখাদা উপজেলার পাতলা পুলিশ ক্যাম্পের এসআই বাবর আলী খান চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় ২২ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।