জুলাইয়ের পর স্থানীয় সরকার ভোট করবে না ইসি
অনলাইন নিউজ ডেক্স
পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের অর্ধশতাধিক প্রতিষ্ঠানে আগামী ১৬ জুলাই ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এসব নির্বাচনের তফশিল আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইসি। ওই সময়ে স্থানীয় সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠান নির্বাচন যোগ্য হয়েছে, সবগুলোতেই তফশিলের আওতায় আনা হচ্ছে। এসব নির্বাচনের পর থেকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সময়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের আর কোনো নির্বাচন করবে না বর্তমান কমিশন। রোববার নির্বাচন কমিশনের ১৮তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ জুলাই অনুষ্ঠেয় পৌরসভা নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে। এছাড়া চলমান সিটি করপোরেশনগুলোতেও এ মেশিনে ভোট নেওয়া হবে। এরপর থেকে আর কোনো নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হবে না। কারণ আগামী নভেম্বরে এসব ইভিএমের আয়ুষ্কাল শেষ হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে চলমান দেড় লাখ ইভিএম’র অধ্যায় শেষ হতে যাচ্ছে। আগামী ডিসেম্বর বা জানুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসি ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও ইভিএম প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়িয়ে আগামী জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব করেছে ইসি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে নির্বাচন ভবনে কমিশনের রুদ্ধদ্বার সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চারজন নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, অতিরিক্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় অংশ নেওয়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, স্থানীয় সরকারের যেসব প্রতিষ্ঠান নির্বাচন যোগ্য হয়েছে তার তালিকা উপস্থাপন করা হয়। ওই তালিকা আরও অধিকতর যাচাইয়ের জন্য ইসি সচিবালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ কারণে ইসি তফশিল ঘোষণা করেনি। তবে ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে দিয়েছে।
সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে ইসি সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঈদুল আজহা এবং এইচএসসি পরীক্ষার কথা বিবেচনায় রেখে মধ্য জুলাইয়ে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। আগামী সপ্তাহের মধ্যে তফশিল দেওয়া হবে। তবে একেকটির নির্বাচন একেক সময় হবে। তিনি জানান, এরমধ্যে পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন রয়েছে। পৌরসভা আছে সাতটি, ইউপি অনেক-যার কারণে তফশিল ঘোষণার আগে সঠিক সংখ্যা বলা যাবে না কতগুলোতে নির্বাচন হবে। তবে পঞ্চাশোর্ধ্ব হবে।
গাজীপুর সিটি ভোটের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশন রিটার্নিং কর্মকর্তাকে সব সাহায্য-সহযোগিতা দিয়ে থাকে। আমরা তাকে সহায়তা দেব। ইভিএম, জনবলের সহায়তা আমরা দেব। বাকি কাজটা রিটার্নিং কর্মকর্তা করবেন। সব সিটি ভোট আয়োজনের জন্য প্রস্তুত ইসি।
সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার সুবিধার্থে জুনের পর স্থানীয় সরকারের ভোট না করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত ছিল ইসির। কিন্তু ইসি সচিবালয়ের প্রস্তুতির অভাব, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন যোগ্য প্রতিষ্ঠানের তালিকা বাছাইয়ে সময়ক্ষেপণ, এইচএসসি পরীক্ষা ও ঈদুল আজহার কারণে ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ইসি। ১৬ জুলাইয়ের পর নির্বাচন না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
সূত্র আরও জানায়, সভায় জানানো হয় গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৭ হাজার ৯০০ ইভিএম ব্যবহার করা হবে। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিতে রাখা ইভিএম থেকে সেগুলোর জোগান দেওয়া হবে। খুলনা সিটি করপোরেশনে প্রায় ৫ হাজার ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে দুই হাজার ইভিএম লাগবে। ওই অঞ্চলে থাকা ইভিএম থেকে এর জোগান দেওয়া হবে। এরপরও দরকার হলে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি থেকে সরবরাহ করা হবে। সেখানে ৯০ হাজারের বেশি ইভিএম সংরক্ষিত আছে। আরও জানানো হয়, রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ইভিএম আসবে রংপুর থেকে। রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যেসব ইভিএম ব্যবহার করা হয়েছে সেগুলোর মধ্য থেকে ব্যবহারযোগ্য মেশিন রাজশাহীতে পাঠানো হবে। সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ওই অঞ্চলে সংরক্ষিত ইভিএম দিয়েই ভোট হবে।
সংসদীয় আসনের সীমানা : সংসদীয় আসনের সীমানা নিয়ে পড়া আবেদনের ওপর শুনানি রোববার শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, কমিশন আবার বসে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। জুনের মধ্যে সীমানা নির্ধারণের কাজ আমরা শেষ করব।
পার্বত্য চট্টগ্রামে আসন বৃদ্ধির দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, এটা কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের আসন সংখ্যা তিনশটি। এর বেশি আসন বানানোর সক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নেই। এটা যখন চূড়ান্ত হবে তখন বলা যাবে বাড়বে না কমবে।
কমিশন সভায় নির্বাচনের সময়ে যে কর্মকর্তারা অতিরিক্ত সময় অফিস করেন তাদের ভাতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে ইসি সচিব জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নীতিমালা প্রণয়নের জন্য একটা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওই কমিটি জাতীয় সংসদসহ কোথায় কী নিয়ম আছে তা দেখে একটি প্রস্তাব দেবে। এর পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।
