যমুনায় পানি বৃদ্ধি, সলিড স্পারের ৪০ মিটার বিলীন


যমুনায় পানি বৃদ্ধি, সলিড স্পারের ৪০ মিটার বিলীন
সিরাজগঞ্জের কাজীপুরে যমুনা নদীর ডান তীরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসংলগ্ন পাউবোর ‘মেঘাই সলিড স্পারের’ প্রায় ৪০ মিটার বিলীন হয়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার ভোরে সলিড স্পার নদীতে বিলীন হয়ে যায়। উজানে পানি বাড়ায় যমুনার তলদেশে কয়েক দিন ধরে প্রবল ঘূর্ণাবর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এতে সলিড স্পার হুমকির মুখে পড়ে। ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) লোকজন বালুভর্তি জিও ব্যাগ ও কংক্রিট ব্লক নিক্ষেপ করে। তবুও শেষ রক্ষা হয়নি। শুক্রবার সলিড স্পারের প্রায় ৪০ মিটার নদীতে বিলীন হয়ে যায়। স্পার ধসের জন্য প্রবল ঘূর্ণাবর্তকে দায়ী করছে পাউবো। যদিও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারির ক্ষেত্রে পাউবোর উদাসীনতাকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা। কাজীপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বিপ্লব বলেন, ‘দুই সপ্তাহ ধরে যমুনায় পানি বাড়ছে। যে কারণে সলিড স্পারের খুব কাছে যমুনার তলদেশে প্রবল ঘূর্ণাবর্ত দেখা দেয়। নিয়মিত সার্ভের মাধ্যমে তলদেশ দেখে ধস রোধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে গড়িমসি করে পাউবো। ফলে শুক্রবার ভোর থেকে মেঘাই সলিড স্পার নদীতে ধসে যায়। এ স্পারটি পুরোপুরি ধসে গেলে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হুমকির মুখে পড়তে পারে।’ এদিকে খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক মীর মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, কাজীপুরের ইউএনও কাজী মো. অনিক ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসন ও পাউবোর কর্মকর্তারা পরিদর্শনে আসেন। ইউএনও অনিক ইসলাম জানান, ধসের খবর পেয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পাউবোকে অনুরোধ করা হয়েছে। পাউবোর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি) রণজিৎ কুমার সরকার জানান, উজানের পানি বাড়ায় এ ধস দেখা দিয়েছে। নিয়মিত নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্পারটিতে আকস্মিক ধসের সৃষ্টি হয়েছে– স্থানীয়দের এমন অভিযোগ অস্বীকার করে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘যমুনায় কখন কী পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তা আগে থেকে অনুমান করা কঠিন। এর পরও বালুর জিও ব্যাগ ও কংক্রিট ব্লক ডাম্পিং করে ধস ঠেকানোর চেষ্টা চলছে।’ এর আগে কাজীপুর উপজেলায় ভাঙন রোধে ১৯৯৭ সালে মেঘাই খেয়াঘাট এলাকায় যমুনার ডান তীরে পাউবোর মাধ্যমে প্রায় ৩০০ মিটার স্পার নির্মাণ করা হয়। যমুনার প্রবল ঘূর্ণাবর্তের কারণে দু’দফায় ২০১২ ও ২০১৩ সালে স্পারটির মূল অংশের প্রায় দেড়শ মিটার ধসে যায়। দফায় দফায় কোটি কোটি টাকা খরচ করে স্পারের মাটির স্যাঙ্ক রক্ষায় তলদেশ থেকে জিওম্যাট বিছিয়ে তার ওপর কংক্রিট ব্লক স্তরে স্তরে দিয়ে প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পাউবো থেকে এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নিয়মিত ব্যাথেমেট্রিক সার্ভে ও রক্ষণাবেক্ষণ না করায় স্পারের তলদেশ ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে।