মার্কিন রাষ্ট্রদূত-পররাষ্ট্র সচিবের বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়


মার্কিন রাষ্ট্রদূত-পররাষ্ট্র সচিবের বৈঠকে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে ২১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বৈঠক করেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। ওই বৈঠকের আলোচনার বিষয় গোপন রাখা হয়। এক সাপ্তাহ পর স্বীকার করা হলো ওই বৈঠকে বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এটা স্বীকার করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরীন। চীনের তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, চীনের তিস্তা প্রকপ বাস্তবায়নের কথা। যদি প্রতিবেশী ভারতের আপত্তি আসে ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তা বিবেচনা করবে বাংলাদেশ। মাসুদ বিন মোমেন- পিটার হাসের বৈঠক প্রসঙ্গে সেহেলী সাবরীন বলেন, সাধারণত যেটা হয়, বিদেশি রাষ্ট্রদূত যারা থাকেন তারা বিভিন্ন সময়ে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। পররাষ্ট্র-সচিব, মন্ত্রী বা বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করেন তারা। তারা বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেন। অবশ্যই সামনে নির্বাচনৃএসব ইস্যুও আছে। আরও কত ইস্যু আছে! তিনি আরো বলেন, উন্নয়ন প্রতিনিয়ত হয় (দুই দেশর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন) সে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। এ রকম না যে নির্দিষ্ট একটা বিষয়ে আলোচনা হলো। দ্বিপাক্ষিক ইস্যু থাকে। আর চলমান ইস্যু নিয়েও আলোচনা হয়। গত বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্র-সচিব মাসুদ বিন মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন পিটার হাস। বৈঠকটি প্রায় আধঘণ্টা স্থায়ী হয়। বাংলাদেশে চীনের তিস্তা নদী প্রকল্প নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সেহেলী সাবরীন বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী রাষ্ট্র। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে তারা সহযোগিতা করে আসছে। তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে সহযোগিতা করার ব্যপারেও চীন আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ- ইআরডি বিবেচনা করে দেখবে। এক্ষেত্রে ভারতের কোনো আপত্তি আছে কি না প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, যদি প্রতিবেশী ভারতের আপত্তি আসে ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তা বিবেচনা করবে বাংলাদেশ। ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন গত ২১ ডিসেম্বর জানান, এরইমধ্যে বাংলাদেশ থেকে তিস্তা নদী বিষয়ক কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব আমরা পেয়েছি। আসন্ন ৭ জানুয়ারির নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করছি। সেহেরী সাবরীন বলেন, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য এখন পর্যন্ত ৩৫টি দেশ থেকে প্রায় ১৮০ জন আবেদন করেছেন। তবে পর্যবেক্ষকদের সংখ্যা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এখন পর্যন্ত কতজন পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগের ব্রিফিংয়ে ৯টি দেশ থেকে পর্যবেক্ষক আসার কথা বলেছিলাম। এখন আরও একটি যোগ হয়েছে, সেটা হচ্ছে গাম্বিয়া। অর্থাৎ ১০টি থেকে পর্যবেক্ষক আসবেন। যেসব বিদেশি সাংবাদিক জাতীয় নির্বাচন কাভার করতে আবেদন করেছেন, ভিসার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত অনুমোদন পাননি। তারা কবে অনুমোদন পেতে পরেন, জানতে চাইলে সেহেরী সাবরীন বলেন, তারা নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছেন। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রক্রিয়া শেষ হলেই তাদের অ্যাক্রিডিটেশন প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরই মধ্যে কিছু সাংবাদিককে তাদের সংশ্লিষ্ট মিশনে আবেদন করতে মেইলের মাধ্যমে অনুরোধ করা হয়েছে জানিয়ে সেহেলী বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় একটি মিডিয়া সেল গঠন করেছে। তাদের কাছ থেকে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ব্যবস্থাপনার জন্য নির্বাচন কমিশন কী পরিমাণ বরাদ্দ রেখেছে, এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। ইলেকশন অবজারভার ফ্যাসিলেটেশন সেল এ নিয়ে কাজ করছে। পর্যবেক্ষকদের জন্য কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, আমরা তো বলেছি পর্যবেক্ষকরা যদি লোকাল হসপিটালিটি চায়, তবে তাদের সেটা আমরা দেব। আর যেটা হচ্ছে, তারা বাংলাদেশে অবস্থানের সময় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। এসব কিছুই বাজেটের মধ্যে থাকবে। যে কারণে বাজেটের বিষয়টি এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। সম্প্রতি সউদী আরবে ভারতীয় নাগরিককে হত্যার দায়ে দুইজন বাংলাদেশির মৃত্যুদ-ের বিষয়ে তিনি বলেন, সউদী আরবের জিযান অঞ্চলে একজন ভারতীয় নাগরিককে হত্যার দায়ে মৃত্যুদ-প্রাপ্ত দুইজন বাংলাদেশি কর্মীর দ- কার্যকর হয়েছে। উক্ত দুইজন ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করে তিনি জানান, একজন যশোরের কোতয়ালি উপজেলার মোফাজ্জল এবং দ্বিতীয়জন ফরিদপুর সদর উপজেলার মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। মুখপাত্র জানান, টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে একজন ভারতীয় নাগরিককে হত্যা করে লাশ দাফনের অভিযোগে এই দুই ব্যক্তির শাস্তি নিশ্চিত করে জেদ্দা। দেশটিতে বাংলাদেশ কন্স্যুলেট জেনারেল এই বিষয়ে সৌদি সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ চলমান রেখেছে।