নাটোরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ মামলার ২ মাসেও আসামি গ্রেফতার হয়নি


নাটোরে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণ মামলার ২ মাসেও আসামি গ্রেফতার হয়নি
নাটোরের নলডাঙ্গায় এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ভয় দেখিয়ে নিজ ঘর থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় দুই মাসেও আসামিদের গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এ মামলার কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছেন না পুলিশ বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারটি। ফলে সঠিক বিচারের অনিশ্চিতায় ভূগছে পরিবারটি। তবে ওসি বলছেন, আসামিরা আত্মগোপনে থাকায় গ্রেফতার করতে কিছুটা সময় লাগছে। খুব দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। শনিবার(১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নাটোর শহরের একটি রেস্তরায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ভূক্তভূগি ওই গৃহবধূ। ধর্ষণের স্বীকার ওই গৃহবধূ নলডাঙ্গা উপজেলার বাঁশিলা এলাকার প্রবাসী মো. মামুন ব্যাপারীর স্ত্রী। ভূক্তভূগি ওই গৃহবধূ বলেন, আমার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে থাকায় ঘরে আমি একা থাকতাম। গত ১৮ই ডিসেম্বর রাতে নিজ বাড়িতে শয়নকক্ষে দরজা বন্ধ করে ঘুমিয়ে যাই। এসময় সাড়ে ১১টার দিকে একই এলাকার মালেক ব্যাপারীর ছেলে তুহিন, মোকলেছের ছেলে ওসমান, বিশার ছেলে জীবন এবং আফজাল ব্যাপারীর ছেলে শুভ কৌশলে আমার ঘরের দরজা খুলে ভিতরে প্রবেশ করে। আমার মুখ চেপে ধরে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায়। আমাকে আসামিরা তুহিনের বাবার বিলে শ্যালো মেশিন ঘরের কাছে নিয়ে গিয়ে তুহিন আমাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এসময় আমার শ্বশুড় বাড়ির লোকজন ঘরের দরজা খোলা দেখে টর্চ লাইট নিয়ে চারিদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। টর্চের আলো দেখতে পেয়ে আসামিরা আমাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরের দিন ১৯ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আমি নিজে বাদি হয়ে নলডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করি। ওই গৃহবধূ আরও বলেন, মামলার দুই মাস অতিবাহিত হলেও অথচ পুলিশ কোনো আসামিকে গ্রেফতার করেননি। আসামিরা ডাক্তার ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে মামলাটি তাদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা করছে। পুলিশ ইচ্ছা করলে যে কোনো জঘন্য অপরাধিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পুলিশ না পারলে র্যাব বা ডিবি পুলিশকে দায়িত্ব দেয়। আমার মামলার ক্ষেত্রে কোনো পদক্ষেপই নেওয়া হয়নি। এই ঘটনার পর আমি ও আমার পরিবার চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আমার স্বামী লজ্জায় দেশে ফিরতে পারছেন না। বর্তমানে আসামিরা আমার পরিবারকে নানাভাবে হুমকি-ধামকি প্রদান করছে। এ অবস্থায় সরকার ও প্রশাসনের কাছে আমার মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার দাবী করছি। অভিযুক্ত আসামিরা হলেন- নলডাঙ্গা উপজেলার ৯ নম্বর বাঁশিলা এলাকার ইউপি মেম্বার মালেক ব্যাপারীর ছেলে মো. তুহিন(২৪), একই এলাকার মোকলেছের ছেলে ছেলে মো. ওসমান(৫৪), বিশার ছেলে মো. জীবন(৪০) এবং আফজাল ব্যাপারীর ছেলে মো. শুভ(২১)। এসময় সংবাদ সম্মেলনে- গৃহবধূর চাচা শ্বশুড় শামসুল, মোহাম্মদ আলী, আবুল রশিদসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ৯ নম্বর বাঁশিলা ইউপি মেম্বার ও অভিযুক্ত আসামির বাবা মালেক ব্যাপারী বলেন, আমার ছেলে যদি ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত থাকে। তাহলে তার অপরাধের সাজা হবে। যদি নিদোষ হয়ে থাকে, তাহলে তার খালাস হবে। অপরাধী যেই হোক, আমি হই বা আমার ছেলে হোক। আইন সবার জন্য সমান। অপরাধ করলে সাজা হবে। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আলিম সরদার বলেন, এ মামলায় আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ আইন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজ করছে। খুব দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হবে পুলিশ বলে এ কর্মকর্তা জানান। এ বিষয়ে নলডাঙ্গা থানার কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মনোয়ারুজ্জামান বলেন, মামলার অভিযুক্ত আসামিরা আত্মগোপনে থাকায় গ্রেফতার করতে কিছুটা সময় লাগছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করছি, খুব দ্রুত সময়ের মধ্য অভিযুক্ত আসামিদের গ্রেফতার করতে পারবে।