হরিণাকুণ্ডুতে অবৈধ প্রাঃ হাসপাতালের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ

প্রকাশিতঃ মে ৫, ২০২৩ | ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন স্বাধীন বাংলার প্রতিচ্ছবি। সভ্য সমাজের মানুষ যা চাইনি, তাও এখন হচ্ছে।আমাদের সমাজের বুনুন, মূল্যবোধ এবং নৈতিকতা প্রতিনিয়ত ঝাঁকুনি খাচ্ছে। বলছি ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার অবৈধ পাইভেট হাসপাতালের কথা। হাসপাতালিটির বিরুদ্ধে নানা ধরণের অভিযোগের খবর পাওয়া গেছে। ঐ অবৈধ পাইভেট হাসপাতালে রোগী সেবার নামে চলছে প্রতারণা। অপরদিকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের অর্থ। দেওয়া হচ্ছে কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগ। একাধিক সুত্রে প্রকাশ উপজেলাতে অবৈধ পন্থায় গড়ে উঠেছে এই প্রাইভেট হাসপাতালটি। নেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও চিকিৎসক, লাইসেন্স,যন্ত্রপাতি। হাসপাতালিটিতে নেই পরীক্ষার উপকরণ, ডাক্তার ও নার্স। শুধু রোগীদের সেবার নামে চলছে প্রতারণা ও ভোগান্তি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ উপজেলাতে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি প্রাইভেট হাসপাতালে সেবার নামে অসহায় রোগীদের নিকট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের অর্থ। হরিণাকুণ্ডতে এই রকম একটি যত্রতত্র বেসরকারি হাসপাতাল হচ্ছে আলহেরা প্রাইভেট হাসপাতাল। যেখানে প্রতিনিয়ত সুন্দরী ম্যানেজার এবং নার্সদের নিয়োগ দিয়ে চালানো হয় শ্লীলতাহানীসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ড। কখনো ভিতরের নারীদের আবার কখনো বাইরের নারীদের নিয়ে এসে এইসব অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালান হাসপাতালিটির মালিক। কথা শুনলে চাকুরী বহাল, না শুনলে চাকরীচ্যুত। বর্তমানে এই ক্লিনিকটির মালিকের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আংগুল তুলেছেন এলাকার সুশীল সমাজ। সরকারি বিধিমতে একটি ক্লিনিকে কমপক্ষে তিন জন এমবিবিএস চিকিৎসক, ছয় জন নার্স ও দুই জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী থাকার কথা। যত্রতত্র প্রাইভেট হাসপাতালিটিতে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ ইং তারিখের পরিদর্শনে আসে ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন। ঘটনার সত্যতা মিললে দেওয়া হয় ত্রুটি সংশোধনের পরিপত্র। এব্যাপার আলহেরা প্রাইভেট হাসপাতালের মাকিকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এখানে শ্লীলতাহানী এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ড হয় বলে আমার জানা নেই। ক্লিনিকে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে, এগুলো ঠিক করা হবে। ক্লিনিকটি মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে অবস্হিত হওয়ায় এ খবরে ফুসে উঠেছেন এলাকার সুশীল সমাজসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের সংগঠন। তারা অবিলম্বে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স থেকে ঐ প্রতিষ্ঠানটির অপসারণপূর্বক মালিক রেজাউল ইসলামের বিচার দাবী করেছেন। এ বিষয়ে জানতে হরিনাকুন্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুস্মিতা সাহা বলেন, আলহেরা প্রাইভেট হাসপাতালের মালিকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অনৈতিক কাজ চালানোর অভিযোগ আমিও পেয়েছি। সে ঠিকমত ভাড়াও পরিশোধ করেনা। তাকে ৭ দিনের ভেতর বকেয়া পরিশোধসহ মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ছাড়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ঝিনাইদহ সিভিল সার্জন ডাঃ শুভ্রা রানী দেবনাথ সাংবাদিকদের জানান,এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত ভাবে আমাকে জানায় নি। তবে প্রাইভেট হাসপাতালিটির মালিক আমাকে পরিদর্শনের ত্রুটিবিচ্যুতির কথা কিছু পরিবর্তনের কথা মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। তাছাড়া খুব শিগ্রহী হাসপাতালিটিতে আবারও পরিদর্শন করা হবে এবং যদি কোনও পরিবর্তন না পায় তাহলে অপারেশন থিয়েটার তালাবন্ধ করা হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।