জাহাঙ্গীরের মনোনয়নপত্র বাতিলে নির্বাচনি মাঠে উত্তাপ নেই

প্রকাশিতঃ মে ৬, ২০২৩ | ৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাত্র ১৯ দিন বাকি থাকলেও গত দুদিন থেকে নির্বাচনি মাঠে উত্তাপ নেই। এর কারণ হচ্ছে, সরকারদলীয় প্রার্থী আজমত উল্লা খানের বিপরীতে শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল। এছাড়া বিএনপি দলীয়ভাবে মেয়র পদে কোনো প্রার্থী না দেওয়ায় তফশিল ঘোষণার পর থেকেই একপাক্ষিক প্রচারণা চলছিল। ধারণা করা হচ্ছিল, জাহাঙ্গীরের প্রার্থিতা টিকে গেলে নির্বাচন জমে উঠবে। আপাতত সে রকমটি হচ্ছে না। জাহাঙ্গীর সমর্থকদের উৎসাহেও ভাটা পড়েছে। এদিকে সরকারদলীয় প্রার্থী আজমত উল্লা খান ২৭ এপ্রিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিন থেকেই প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনই তার বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। তখন তাকে সতর্ক করা হয়। তাতে কাজ না হলে তাকে নির্বাচন কমিশন থেকে শোকজ করা হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৃহস্পতিবারের ঘটনা। তিনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে গাজীপুর সিটির বাইরে গিয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন। এমনকি তার পক্ষে মন্ত্রী-এমপিরাও প্রচারণায় অংশ নেন। যে কারণে এসব বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য কমিশন তাকে তলব করে। আগামীকাল (রোববার) আজমত উল্লা খানকে সশরীরে ইসিতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ওইদিন সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে তার প্রার্থিতাও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এদিকে জাতীয় পার্টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জাকের পার্টির প্রার্থীসহ যে ৯ জন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধতা পেয়েছে আচরণবিধির বাধ্যবাধকতায় তারা প্রচারণায় যাচ্ছেন না। মূলত বিবিধ কারণেই গাজীপুর সিটি নির্বাচন এখন কোনদিকে মোড় নেবে তা দেখতে এখন সবার নজর। ২০১৮ সালের ২৬ জুন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের দ্বিতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ গাজীপুর মহানগর শাখার তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন। কিন্তু তার এক ঘরোয়া আলোচনায় বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার এবং পরে তাকে মেয়র পদ থেকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে তার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার করা হলেও তিনি মেয়র পদ ফিরে পাননি। এ অবস্থায় গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হয়। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে যে কজন নেতা মাঠে ছিলেন তাদের মধ্যে মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের নাম ছিল আলোচনার শীর্ষে। কিন্তু মনোনয়ন বোর্ড আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসাবে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. আজমত উল্লা খানকে মনোনীত করে। এদিকে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে জাহাঙ্গীর আলমও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিলে তা বাতিল হয়ে যায়। এদিকে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো এ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে না যাওয়ার ঘোষণায় অটুট থাকলেও বিএনপি পরিবারের সদস্য সরকার শাহনূর ইসলাম রনি স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। তার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধতাও পায়। সরকার শাহনূর ইসলাম (রনি সরকার) টঙ্গীর কারাবন্দি বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম সরকারের ছেলে ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকারের ভাতিজা হিসাবে পরিচিত হলেও রাজনীতিতে তিনি অনেকটাই অচেনা। কিন্তু জাহাঙ্গীর আলম না থাকলে আজমত উল্লা খানের বিজয় অনেকটাই সুনিশ্চিত হবে বলে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা। তবে একটি সূত্রের দাবি জাহাঙ্গীর আলম না থাকলে সরকারবিরোধী ও অঞ্চলভিত্তিক বিকল্প প্রার্থী হিসাবে জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী সাবেক সচিব এমএম নিয়াজ উদ্দিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সরকার শাহনূর ইসলামের দিকে ঝুঁকতে পারেন ভোটাররা । আর যদি আইনি লড়াইয়ে জাহাঙ্গীর আলম তার প্রার্থিতা ফিরে পান তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাড. আজমত উল্লা খানের নির্বাচনি পথ পাড়ি দেওয়া একটু কঠিন হবে। এ অবস্থায় গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন মূলত মেয়র প্রার্থীকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। মেয়র পদে জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়নপত্র রিটার্নিং অফিসার ও বিভাগীয় কমিশনারের থেকে বাতিল হওয়ায় শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতে কী রায় হয় তা নিয়ে চলছে জোর আলোচনা।