অর্থ পাচার রোধ ও ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘ব্যাংক ও বিমা’ বিভাগ নিয়ে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠনের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতি।
রোববার সুপ্রিমকোর্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহ মো. খসরুজ্জামান এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সেক্রেটারি জেনারেল মো. সগীর আনোয়ার, আইনজীবী কেএম জাবির, নাসির উদ্দিন খান সম্রাট, রুহিন চৌধুরী ফরহাদ, সৈয়দা সাবিনা আহমদ মলি, মো. আব্দুছ ছবুর দেওয়ান, মো. কামাল হোসেন মিয়া, মোশাররফ হোসেন সেতু, মিজানুর রহমান, সুবাইয়া বেগম, জোবাইদা পারভীন প্রমুখ।
শাহ মো. খসরুজ্জামান বলেন, প্রভাবশালীরা ঋণের নামে শত শত কোটি টাকা ব্যাংক থেকে বিদেশে পাচার করেই চলছেন। এই অর্থ পাচার রোধ ও পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে ‘ব্যাংক-বিমা’ বিষয়ে আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন এবং এই খাতের কার্যক্রম তদারকি এবং মনিটরিংয়ের প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যানের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
লিখিত বক্তব্যে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। তাদের অন্যান্য দাবিগুলো হচ্ছে বৈশ্বিক যুদ্ধকালীন সংকট মোকাবিলায় দেশের ডলার সংকট দূরীকরণে বিদেশে অর্থ পাচার বন্ধ এবং পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার স্বার্থে আগামী অর্থবছরে দেশের শিল্প, কৃষি, স্বাস্থ্য, প্রাণিসম্পদ ও আবাসন খাত সংশ্লিষ্ট সব ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগকৃত অর্থ ৫ শতাংশ অগ্রিম কর দেওয়ার সাপেক্ষে বিনা প্রশ্নে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড মেনে নেওয়ার জন্য আসন্ন বাজেটে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করেন।
২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে স্থাপিত কোম্পানির শেয়ার ক্রয় করলে বিনিয়োগকৃত অর্থ ৫ শতাংশ অগ্রীম কর প্রদানে সাপেক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিনা প্রশ্নে মেনে নেওয়ার প্রস্তাব করেন।
রাজস্ব আইনের সুবিধার্থে ভ্যাট আদায়ের বর্তমান পদ্ধতির সংস্কার করার প্রস্তাব করেন। আসন্ন বাজেটে বর্তমান বাণিজ্যিক ভবনের (বাড়ি) ভাড়ার ওপর প্রচলিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীদের প্রদানের বিধান বাতিল করে বাড়ির মালিকের ওপর ধার্য করা উচিত। বর্তমানে বাস্তবতার আলোকে বাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি রোধকল্পে অনতিবিলম্বে তা প্রত্যাহার করে বাড়ির মালিকদের ধার্যকৃত ভ্যাট প্রদানের প্রস্তাব করেন।
রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক প্রতিবছর করদাতাদের আইনগত সুবিধা দিতে ব্যাপক ও বাস্তব ভিত্তিক গতিশীল করার জন্য দক্ষ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের প্রস্তাব।
আইনজীবী কর্তৃক দায়েরকৃত মামলায় মোট কোর্ট ফির ৫ শতাংশ বার কাউন্সিল বেনিভোলেন্ট ফান্ডে জমা করার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসন্ন বাজেটে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা হয়। অষ্টম দাবি, বিচারকরা কোর্ট চলাকালীন সময় ছাড়াও মালার নিষ্পত্তি ও রায় প্রদানের জন্য গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন। সার্বিক বিবেচনায় বিচারকদের জন্য বিশেষ আর্থিক প্রণোদনার বিষয়টি আসন্ন বাজেটে অন্তর্ভুক্তি প্রস্তাব করা হয়।
তরুণ ও নবীন আইনজীবীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ট্রেনিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার জন্য বাজেটে অন্তর্ভুক্তি প্রস্তাব করা হয়। মুক্তিযুদ্ধকালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি। তখন মহান জাতীয় সংসদের আসন ৩০০। বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা সাড়ে ১৭ কোটি ফলে জাতীয় সংসদের আসন বৃদ্ধি করে ৪৫০ করার প্রস্তাব করা হয়।
১৯৭০ সালে নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক-তৃতীয়াংশ আসনে আইনজীবীদের মনোনয়ন দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আগামী নির্বাচনে আইনজীবীদের মর্যাদা ও অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে এক-তৃতীয়াংশ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানানো হয়।