বর্ষা আসার সপ্তাহ আগেই মেঘ-মেদুর দিন

প্রকাশিতঃ জুন ১০, ২০২৩ | ৬:৫০ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

বাংলা একাডেমির নতুন বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী ১৫ জুন পহেলা আষাঢ়। সেই হিসাবে এক সপ্তাহ আগেই প্রায় সারা দেশে শুরু হয়েছে মেঘ-মেদুর পরিবেশ। শুক্রবার জুমার নামাজের আগে ও পরে বেশ বৃষ্টি হয়েছে। কেবল ঢাকায়ই সকাল ৯টা থেকে ৩ ঘণ্টায় রেকর্ড করা হয়েছে ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি। সব মিলিয়ে এদিন ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ৪৭ মিলিমিটার। এভাবে দেশের ৮ বিভাগেই এদিন কম-বেশি বৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর (বিএমডি)। এতে তাপমাত্রা ২ থেকে সাড়ে ৪ ডিগ্রি নেমে আসায় জনজীবনে স্বস্তি এসেছে। এদিকে বৃষ্টির পাশাপাশি একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ সাগরেও বিস্তৃত হয়েছে। গভীর সঞ্চলনশীল মেঘমালা তৈরি হচ্ছে উত্তর বঙ্গোপসাগরে। বৃষ্টি ও বজ বৃষ্টির সঙ্গে কিছুটা দমকা হাওয়া থাকায় সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া ১০ জেলার নদনদীতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। জেলাগুলো হচ্ছে-রংপুর, দিনাজপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেট। এসব অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ সহ বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানান, আবহাওয়া পরিস্থিতি গত ১২ দিনের তুলনায় এখন ভিন্ন ধরনের। মূলত বৃষ্টি পরিস্থিতির কারণে তাপমাত্রা নিম্নমুখী। মৌসুমি বায়ু চট্টগ্রাম হয়ে সিলেট পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছে। আগামী ৫ দিনের মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু ঢাকা বিভাগসহ দেশের অবশিষ্টাংশ এলাকায় বিস্তার লাভ করতে পারে। ফলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। এ সময়ের শেষদিকে তাপমাত্রা বাড়তে পারে। আবহাওয়াবিদরা জানান, মধ্য জুনে বর্ষকাল শুরু হলেও সাধারণত বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু ৩১ মের দিকে প্রবেশ করে। কিন্তু এ বছর বৃহস্পতিবারই কক্সবাজার উপকূলে পৌঁছায় এ বায়ু। শুক্রবার তা চট্টগ্রাম পর্যন্ত বিস্তার লাভ করে। সাধারণত কুমিল্লা, সিলেট এবং ঢাকা হয়ে এ বায়ু সারা দেশে বিস্তার লাভ করে। তাই প্রাক-মৌসুমে যে দাবদাহ থাকে, মৌসুমি বায়ুর চাপে তার প্রস্থান ঘটে। যদিও বর্ষাকালে বৃষ্টি হলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ থাকে বেশি। তাই বৃষ্টির পর অনেক সময়ে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। অর্থাৎ জলীয় বাষ্পের কারণে শরীর থেকে লোমকূমের মাধ্যমে বের হওয়া ঘাম লেপ্টে যায় শরীরের সঙ্গে। তখনই এই অসহনীয় অবস্থা তৈরি হয়। এরপরও মাঝেমধ্যে বয়ে যাওয়া শীতল বায়ু বা বৃষ্টির আনাগোনা মানব ও প্রকৃতিতে শান্ত করে। বিশেষ করে বারিবর্ষণে প্রকৃতি থাকে সজিব ও কোমল। সেই সময়টাই শুক্রবারের বৃষ্টির মাধ্যমে শুরু হলো বলে মনে করেন আবহাওয়াবিদরা। তবে তারা পাশাপাশি এটাও বলেছেন, রোববার নাগাদ বৃষ্টিশূন্য হয়ে পড়তে পারে বিভিন্ন এলাকা, যা আজ রাত থেকেই শুরু হতে পারে। তখন গরম বাড়বে। এরপর অবশ্য ২৩ জুন পর্যন্ত প্রায় দৈনিকই বৃষ্টি থাকতে পারে বলে মার্কিন প্রতিষ্ঠান দ্য ওয়েদার চ্যানেলের পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে। বিএমডি শুক্রবার সকাল ৯টায় ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাস জারি করেছে। এতে বলা হয়, চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায়; রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ সহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। প্রসঙ্গত, কোনো এলাকায় ২৪ ঘণ্টায় ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা মাঝারি ধরনের ভারী এবং ৪৪-৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তাকে ভারী বৃষ্টি বলা হয়। বিএমডি দেশের ৪২ স্টেশনে আবহাওয়া পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে থাকে। শুক্রবার রাতে সংস্থাটি জানায়, এর মধ্যে ৩৭ স্টেশনেই বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে টাঙ্গাইলে ৮৪ মিলিমিটার। এদিকে বৃষ্টি হলেও দেশ থেকে এখনও তাপপ্রবাহ বিদায় নেয়নি। বিএমডি জানায়, রাজশাহী, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জ, নেত্রকোনা ও সিলেটসহ রংপুর বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অব্যাহত থাকতে পারে। শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গায় ৩৭ সেলসিয়াস। আর এদিন ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ১ ডিগ্রি। বৃহস্পতিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেদিন ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।