নাজমা বেগম। মাস্ক বিক্রেতা। রাজধানীর নিউইস্কাটনের বিয়ামের গলিতে গেলেই মিলবে তার দেখা। ব্যস্ত রাস্তার কোল ঘেঁষে তার পাঁচ বছরের মেয়েকে নিয়ে বসে থাকেন। সামনে অনেক মাস্ক সাজিয়ে রাখেন বিক্রির জন্য।
জীবন সংগ্রামে খেটে খাওয়া এক নারী তিনি। তার জীবন সংগ্রামের গল্প বললেন প্রতিবেদক তাসমিম সুলতানার কাছে। রাজধানীর বিয়ামের গলিতে ফুটফুটে এক শিশুকে নিয়ে বসে থেকে মাস্ক বিক্রি করছেন এক মহিলা। ব্যস্ত সকালে পথচারীদের আনাগোনা চলছে। আর সেসব পথচারীদের পথ চেয়ে বসে আছেন নাজমা বেগম। তবে সাহায্যের আশায় না, তিনি মাস্ক বিক্রি করেন।
যদি কেউ একটা মাস্ক কেনেন সেই লাভের টাকা দিয়েই জুটবে তার আহার। অনেকেই উল্টেপাল্টে মাস্ক দেখছেন, বিভিন্ন প্রশ্ন করছেন। কেউ কিনছেন, কেউবা না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। তাতেও তার যেন নেই কোনো আক্ষেপ। বোরখা আর নেকাবের ফাঁকে তার চোখের চাহনিতে কেবল ফুটে উঠছে তার অসহায়ত্ব। এবার ঈদে তিনি কোরবানি দিতে পারেননি। ঈদ করেছেন ঢাকায়।
কতদিন ধরে এখানে মাস্ক বিক্রি করছেন জানতে চাইলে কে বলেন-
আমি এখানে এক বছর ধরে মাস্ক বিক্রি করি। লকডাউনের আগে ফুল বিক্রি করতাম। দুই ছেলে আর এক মেয়ে। বড় ছেলে বিয়ে করে আলাদা হয়ে গেছে। আর প্যারালাইজড স্বামীসহ ছোট ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে আমি থাকি।
প্যারালাইজড হবার পর স্বামী আর আগের মতো পরিশ্রম করতে পারে না। কাজেই কোনো আয় রোজগারও করতে পারে না। কাজেই বাধ্য হয়ে আমাকেই রাস্তায় নামতে হয় রোজগার করতে। ৯০০ থেকে ১০০০ টাকার মাস্ক বিক্রি হয়।
তিনি বলেন আমি ২৬ বছর আগে থেকে প্রথম রোজগার শুরু করি দ্যাশের বাড়িতে কাঁথা সেলাইয়ের মাধ্যমে। স্বামী প্যারালাইজড হয়ে বিছানায় ছিল তখন। ছোট ছেলেটাকেও অপারেশন করাতে অনেক টাকা দরকার ছিল। টাকা জোগার করতে সুদের ওপর ধার নিয়েছিলাম। আমার স্বামী একা। বাপ নেই, ভাই- বোন কেউ নেই। শুধু মা আছেন। অনেক কষ্ট করেছি।
ছোট মেয়েটি বই-খাতা নিয়ে মায়ের পাশেই বসে আছেন। খাতায় মন দিয়ে লিখছেন। সে স্কুলে পড়ে। মেয়েকে নিয়ে স্বপ্নের কথা জানতে চাওয়া হলে মন খারাপ করে বলেন-
গরিব মানুষের মেয়ের আবার স্বপ্ন। গরিবদের স্বপ্ন দেখতে নেই। স্বপ্ন দেখা মানেই তাদের জন্য বিলাসিতা। আর আমাদের বিলাসিতা করা মানায় না। যেখানে তিনবেলা দুই মুঠো ভাতের জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে।