আদানির বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে ফারাক্কার চাষীদের মামলাকে রাজনৈতিক মামলায় পরিণত করতে নিষেধ করেছেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম। একইসঙ্গে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে আদানির বিদ্যুৎ রপ্তানির বিষয়ে ভারত সরকারের মতামত জানতে চান তিনি।
আদানির বিদ্যুৎ প্রকল্পের সঞ্চালন লাইনের বিরোধিতা করে গত ৩১ জানুয়ারি কলকাতার হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে ৩০ জন চাষী। এই মামলার প্রেক্ষিতে সোমবার কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে শুনানি হয়। শুনানি চলাকালীন মামলা পর্যবেক্ষণ করে এ মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এদিন আবারও এপিডিআর এর আইনজীবী ঝুমা সেন কৃষকদের আর্জি উপেক্ষা করে, দেশের বহু আইনকানুন লঙ্ঘন করে বাংলাদেশে হাই-টেনশন লাইন নিয়ে যাবার বিষয়ে বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
ঝুমা সেন বলেন, ঝাড়খন্ড এবং মুর্শিদাবাদ হয়ে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে আদানি গোষ্ঠী। কিন্তু কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করে \'হাই টেনশন বিদ্যুৎ লাইন সম্প্রসারণ করেছে আদানি। কৃষকদের নিয়ম মেনে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় নি।একের পর এক আমগাছসহ ফলের গাছ কেটে দেওয়া হয়েছে কৃষকদের। অবিলম্বে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আবেদন করছি। ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আগে পর্যন্ত বিদ্যুৎ সম্প্রসারণ বন্ধ রাখারও আবেদন করছি।
তবে এ সময় চাষীদের দায়ের করা পৃথক একটি মামলায় পুলিশের নির্যাতনের কথা উল্লেখ করলে বিচারপতি মামলাটিকে রাজনৈতিক মামলায় পরিণত না করার উপদেশ দেন। এছাড়া প্রধান বিচারপতি বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ রপ্তানির বিষয়ে ভারত সরকারের মত জানতে চান।
উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা জেলায় আদানি গোষ্ঠীর তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার উপর দিয়ে খুঁটি দিয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুতের তার (হাইটেনশন) যাচ্ছে বাংলাদেশে। কিন্তু জেলার যে অংশের উপর দিয়ে আদানির এই বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন যাচ্ছে, সেই ফারাক্কা নামক জায়গায় প্রচুর পরিমাণ আম ও লিচুর বাগান থাকায় তাতে প্রবল আপত্তি জানায় সেখানকার ফল বাগিচার চাষীরা। গত বছরের জুলাই মাসে এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জড়িয়ে পরে গ্রামবাসীরা। আহত হয় একাধিক গ্রামবাসী ও পুলিশ। গ্রামবাসীদের অভিযোগ ছিল, পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ না দিয়ে জোরপূর্বক আম-লিচু বাগানের উপর গিয়ে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুতের লাইন বাংলাদেশে নিয়ে যাচ্ছে আদানি।