কেন্দুয়াতে সর্দি-জ্বরের প্রকোপে হাসপাতালে রোগীর ভীড়

প্রকাশিতঃ সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৩ | ১০:১০ অপরাহ্ণ
আনোয়ার উদ্দিন কেন্দুয়া প্রতিনিধি নেত্রকোনা ময়মনসিংহ

ভাদ্রের আকাশে তীব্র রোদ, আবার কোথাও মুষলধারে বৃষ্টি। রোদ-বৃষ্টির এই খেলায় প্রকৃতিও সঠিক অবস্থানে নেই। যার ফলে গরম-ঠান্ডার এমন পরিস্থিতিতে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় জ্বর, সর্দি-কাশি, মাথাব্যথার প্রকোপ এখন প্রায় প্রতিটি বাড়িতে। কমিউনিটি ক্লিনিক সহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে উপজেলার অনেক গ্রামেই সর্দি-জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত রোগী রয়েছেন, কোন কোন পরিবারে একাধিক সদস্য আক্রান্ত। আক্রান্তরা বেশির ভাগই বিভিন্ন স্থানীয় ফার্মেসী থেকে উপসর্গের কথা বলে ঔষধ কিনে সেবন করছেন। আবার কেউ কেউ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহিঃর্বিভাগে গিয়েও চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডাক্তারদের ব্যক্তিগত চেম্বারগুলোতেও রয়েছে এ ধরনের রোগীদের ভিড় । কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন সকালে টিকিটের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় রোগী ও তাদের স্বজনদের। এর মধ্যে শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সের মানুষ ও রয়েছেন। ৫ বছর বয়সী শিশু মুনকে ডাক্তার দেখানোর পর বাড়ি যাওয়ার পথে তার বাবা রেজাউল জানান, মেয়ের দুদিন থেকে খুবই জ্বর-সর্দি আর কাশিতে ভুগছে। ফার্মেসি থেকে ওষুধ এনে খাওয়ানো হয় কিন্তু জ্বর কমেনি তাই স্থানীয় বাজারে ডাক্তার দেখানোর জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম। জ্বরে আক্রান্ত অটো চালক কাজল মিয়া বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বৈরী আবহাওয়া, ভ্যাপসা গরমের মধ্যে গাড়ি চালিয়ে গরম-ঠান্ডা আবহাওয়ার কারণে জ্বরে আক্রান্ত হই, তবুও উপর্জনের জন্য রাস্তা গাড়ি চালাচ্ছি এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করে যাচ্ছি। কেন্দুয়া বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী আল আমিন বলেন, কয়েকদিন ধরে সর্দি-কাশি, জ্বরের ঔষধ বিক্রি বেশি হচ্ছে। তাতে মনে হয় এখন ঘরে ঘরে জ্বর আক্রমণ চলছে। পৌরসভার আয়শা-সালাম ভূঞা একাডেমির পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়শা আক্তার অরিন জানায় জ্বর ও প্রচন্ড কাশি নিয়ে আমার মডেল টেস্ট এর সবগুলো পরীক্ষা দিয়েছি, এখনো পুরোপুরি কমেনি, পিন্টু ডাক্তার স্যারের পরামর্শে ঔষুধ খাচ্ছি। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মাহফুজুর রহমান জয় বলেন, আবহাওয়াজনিত কারণে হঠাৎ সর্দি-জ্বরের প্রকোপ বেড়েছে এবং এটা মূলত ভাইরাস জনিত জ্বর। হাসপাতালে এই জ্বর নিয়ে আসা রোগীর চাপ বেড়েছে। যা অতীতে দেখা যায়নি। তিনি আরো বলেন হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঔষধ মজুদ আছে। এ নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। এই সর্দি-জ্বরের জন্য দোকান থেকে এন্টিবায়োটিক ট্যাবলেট না খেয়ে শুধুমাত্র প্যারাসিটামল খেতে হবে। পাশাপাশি সর্বদা তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে এবং বাসায় বিশ্রামে থাকতে হবে, কোন ব্যতিক্রম হলেই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।