ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দুই নেতাকে পুলিশ হেফাজতে এডিসি হারুন অর রশিদের মারধরের অভিযোগের বিষয়ে মামলা করবে না সংগঠনটি। পুলিশের বিভাগীয় তদন্তের উপর আস্থা রাখতে চায় ছাত্রলীগ।
সোমবার ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন।
তিনি বলেন, যেই অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে এতে বাংলাদেশের সব শ্রেণির নেতাকর্মীদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। এ ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া যেন নিশ্চিত করা হয় এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা হয় সেজন্য আমরা রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছি। আজ ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেছি। ডিএমপি কমিশনার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আইনানুগ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
এ ঘটনায় কোনো মামলা করা হবে কিনা এবং মামলা করতে পরিবারকে বাধা দেওয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে ছাত্রলীগের সভাপতি জানান, তারা আপাতত ডিএমপির বিভাগীয় তদন্তে আস্থা রাখছেন।
এর আগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় দুই নেতাকে বেধরক মারধরের ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সদরদপ্তরে যান সংগঠনটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান। তারা সেখানে ডিএমপি কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুকের সঙ্গে প্রায় আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করেন।
শনিবার রাতে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ঢাবির ফজলুল হক হলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন নাঈম এবং বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাবির শহীদুল্লাহ হলের সাধারণ সম্পাদক শরীফ আহমেদ মুনিমকে শাহবাগ থানায় নিয়ে বেধরক মারধর করেন এডিসি হারুন অর রশিদ। নারীঘটিত একটি ঘটনার জেরে এই মারধরের ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তপ্ত হয়ে উঠে ক্যাম্পাসের পরিবেশ। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। শাহবাগ থানায় নিয়ে দুই নেতাকে নির্যাতনের পর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনার জেরে রাতেই শাহবাগ থানার সামনে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ভিড় করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও পুলিশের কর্মকর্তারা থানায় গিয়ে মধ্যরাতে ঘটনা মীমাংসা করেন।
এ ঘটনায় এডিসি হারুনকে এপিবিএনে বদলি করা হয়। কিন্তু ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের দাবি, হারুনকে গ্রেফতার করা হোক।
এমতাবস্থায় আজ বেলা সোয়া ১২টার দিকে সাদ্দামকে ডিএমপি সদর দপ্তরে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তিনি ডিএমপি কমিশনার গোলাম খন্দকার ফারুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তার কাছে এ বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি জানতে চান। এ সময় সাদ্দামের সঙ্গে ইনানও ছিলেন। তারা আড়াইটার দিকে ডিএমপি কার্যালয় ত্যাগ করেন।