পিরের কথিত আদেশ মেনে স্বাধীনতার পর থেকে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের নারী ভোটাররা ভোট প্রদান করেন না। এ প্রথা ভাঙতে প্রশাসন নির্বাচন এলেই নানা চেষ্টা করে। সর্বশেষ ওই এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দু-একটি কেন্দ্রে নামমাত্র নারীরা ভোট দিয়েছেন, যা মোট ভোটারের ২-৩ ভাগ। অর্থাৎ প্রথার দোহাই দিয়ে উল্লেখযোগ্য নারীরা ভোটকেন্দ্রে আসছেন না ভয়ে। ভোট না দেওয়ার তালিকায় মুসলিম ছাড়াও সনাতন ও খ্রিষ্টানসহ অন্য ধর্মের নারীরাও রয়েছেন।
জানা গেছে, রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে মোট ভোটার সংখ্যা ২০ হাজার ৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ৪৯৩ জন ও নারী ৯ হাজার ৫১০।
সর্বশেষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার বিকালে ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় মহিলা সংস্থা ও উপজেলা তথ্যকেন্দ্রের আয়োজনে এই উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখযোগ্য বয়োবৃদ্ধ নারীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানে স্থানীয় একটি মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম পবিত্র কুরআন শরিফের আয়াত ব্যাখ্যা করে ইসলামে ভোট দানের বিষয়টির আলোকপাত করেন।
স্থানীয় গৃদকালিন্দিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে জেলা প্রশাসক কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক সিনিয়র সচিব বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের সদস্য (পিএসসি) মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) জহিরুল ইসলামের পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বিপিএম পিপিএম। এ সময় আরও বক্তব্য দেন জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তোফায়েল আহমেদ, উপজেলা চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) জিএস তছলিম আহমেদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌলি মণ্ডল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আজিজুন্নাহার, থানা অফিসার ইনচার্জ মো. সাইদুল ইসলাম, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শরীফ হোসেন খান, বিশ্ব সাহিত্যকেন্দ্রের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা খন্দকার মোস্তফা কামাল, গৃদকালিন্দিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসেন ও মাওলানা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। এ সময় সভায় বিপুল সংখ্যক নারী উপস্থিত ছিলেন।
স্বাধীনতার আগে রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নে মহামারি দেখা দেয়। তখন অসংখ্য মানুষ কলেরা, ডায়রিয়া ও বসন্তসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হন। আর এসব থেকে পরিত্রাণ পেতে আক্রান্তসহ স্থানীয়রা জৈনপুরী পির মাওলানা মওদুদুল হাসানের কাছে দোয়ার জন্য যান। তখন তিনি নারীদের পর্দা এবং বাড়ি থেকে বের না হওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু পরে ভোটের সময় গ্রামবাসী ও প্রার্থীরা পিরের প্রকৃত কথা আড়াল করে নারীদের ভোট না দেওয়ার বিকৃত তথ্য প্রচার শুরু করে। সেই থেকেই এখানকার নারীরা ভোটকেন্দ্রে যান না।