মাগুরায় খেজুর রসের বিখ্যাত নলেন গুড় তৈরিতে ব্যস্ত গাছিরা।

প্রকাশিতঃ ডিসেম্বর ১৫, ২০২৩ | ৫:৪২ অপরাহ্ণ
মোঃ সাহিদুল ইসলাম নয়ন, জেলা প্রতিনিধি মাগুরা

মাগুরার গ্রামে গঞ্জে খেজুরের রস থেকে সুস্বাদু নলেন গুড় ও পাটালি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন গাছিরা। শীতের আগমনে বেশ কিছুদিন ধরেই শুরু হয়েছে খেজুর রস সংগ্রহের কাজ। প্রতি বছরের মতোই এ বছরও রস সংগ্রহের জন্য খেজুরগাছ প্রস্তুতের কাজ চলছে। উপজেলাগুলোর বিভিন্ন অঞ্চলের গাছিরা এখন ব্যস্ত খেজুরের রস সংগ্রহ করে নলেন গুড় ও পাটালি তৈরিতে। ভোরের সূর্য ওঠার আগে গাছিরা রস ভর্তি মাটির ভাঁড় গাছ থেকে নামান। পরে মাটির হাঁড়িতে কিংবা টিনের বড় তাওয়ায় জ্বাল দিয়ে গুড়-পাটালি ও লালি তৈরি করেন। নতুন খেজুর রসের গুড় তৈরির পর তা চলে যাচ্ছে বাজার সহ রাজধানীতেও। গ্রামের ঘরে ঘরে খেজুর রসের পিঠা, পায়েস, গুড়ের মুড়ি-মুড়কি ও নানা ধরনের মুখরোচক খাবার তৈরি করার ধুম পড়েছে। বাজারে চিনির দাম তুলনামূলক কম হলেও খেজুরের গুড়ের চাহিদা কমেনি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গাছিরা। শীতে গ্রামবাংলার মানুষের কাছে খেজুরের গুড় ও পাটালি একটি অত্যাবশ্যকীয় খাদ্য উপাদান। তাই ভরা এ শীত মৌসুমে মাগুরায় শুরু হয়েছে খেজুরের রস থেকে গুড় ও পাটালি তৈরির উৎসব। খণ্ডকালীন এ পেশায় নিয়োজিত অনেক পরিবার অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হয়ে উঠছে। মাত্র তিন-চার মাস খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ করে সারা বছরের সাংসারিক খরচ জোগানোর চেষ্টা করেন অনেকে। এ মৌসুমে গুড় ও পাটালি বিক্রি করে স্থানীয় গাছিরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাবার আশা করছেন। তবে সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় উৎপাদিত গুড়ের নায্য মূল্য নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন চাষিরা। তাছাড়াও ইট ভাটার কারণে অবাধে গাছ কেটে ফেলায় মাগুরায় খেজুরগাছ অনেক কমে গেছে। গাছের তুলনায় গাছির সংখ্যাও কম। ফলে গাছগুলোর পরিচর্যা করতে হিমশিম খাচ্ছেন গাছিরা। কোমরে মোটা রশি বেঁধে খেজুরগাছের অগ্রভাগের একটি নির্দিষ্ট অংশ চিরে বিশেষ নিয়মে ছোট কলসি (ভাঁড়) বাঁধা হয়। ফোঁটায় ফোঁটায় সারা রাত ধরে খেজুরের রসে পূর্ণ হয় ওই কলসি। ওই রস দিয়ে প্রসিদ্ধ গুড় ও পাটালি তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে পরিবারের সবাই। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, মাগুরা সদর, শ্রীপুর, মহম্মদপুর ও শালিখা উপজেলায় প্রায় লাখো খেজুরগাছ রয়েছে। যা থেকে প্রায় দেড় হাজার টন গুড় উৎপাদন সম্ভব। শীত মৌসুমে খেজুরগাছ থেকে রস সংগ্রহ শেষে গুড়-পাটালি তৈরি ও বিক্রি করে জেলার চার উপজেলার প্রায় দশ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করেন। জানা গেছে, প্রতিটি গাছ থেকে শুরুতে এক থেকে দুই কেজি করে রস সংগ্রহ হয় ও আস্তে আস্তে সেটা বাড়ে। প্রথমদিকে প্রতিদিন আনুমানিক পাঁচ কেজি করে খেজুরের গুড় তৈরি হয়। পুরো মৌসুমে প্রতিদিন ১৫ কেজি থেকে ২০ কেজি খেজুরের গুড় ও পাটালি তৈরি করা হয়। প্রতি কেজি খেজুরের গুড় ও পাটালি বাজারে পাইকারদের কাছে ৩৫০ থেকে ৪০০ বা অধিক টাকায় বিক্রি করা হয়। মাগুরার রসের স্বাদ যেমন সুমিষ্ট তেমনি এর তৈরি গুড়ও স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়। এমন কোন গ্রাম নেই যেখানে কম-বেশি খেজুর গাছ নেই। খেজুর গাছের আবাদ বাড়লে রস-গুড়-পাটালির মৌতাতে আবারও মুখরিত হবে আমাদের গ্রামীণ জনপদ।