সিরাজদিখানে  ফসলী জমির মাটি কাটার মহ্যেৎসব! বিক্রি হচ্ছে ইট ভাটায়।

প্রকাশিতঃ জানুয়ারি ২১, ২০২৪ | ৬:৩৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান এ ফসল জমির মাটি কাটার মহোৎসব চলছে। আইন অমান্য করে অবাধে ফসলী জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ভূমিদস্যদের বিরুদ্ধে। এতে পরিবেশ বিপর্যয়সহ কমে যাচ্ছে এলাকার ফসলী জমির পরিমান। পার্শ্ববর্তী জমিগুলোও পরছে হুমকির মুখে। মাটি পরিবহনে মারাত্নক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে জনসাধারনের চলাচলের রাস্তা। ভুক্তভোগি এলাকাবাসী জানান, প্রতিবছর যেসব জমিতে গোল আলু, সরিষা, গম, ধানসহ বিভিন্ন জাতের সষ্য চাষ করা হত। কিন্তু কিছু চিহ্নিত ভূমিদস্যু গত ৩/৪ বছর যাবৎ উপজেলার রামকৃষনদী মৌজাসহ আশে-পাশে এলাকার কৃষি জমির মাটি ইট ভাটায় বিক্রি করছে। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, আমরা জমি কিনে তারপর মাটি কাটি। এছাড়া অনেকে আবার জমি বিক্রি না করে শুধু জমির মাটি বিক্রি করে ।  জমির মাটি ভেকু মেশিন দিয়ে ১৫/২০ ফুট গভীরে এমন খাড়াভাবে কাটে যাতে অল্প কয়েক দিনের মধ্যে পার্শ্ববতী জমির মাটি ভেঙে পরে। তখন পার্শ্ববর্তী ওই জমিরও আর ফসল ফলানোর উপযোগী থাকেনা। তখন পার্শ্ববর্তী জমির মালিককে দালালের মাধ্যমে তাদের কাছে মাটি বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়।মাটি কেটে ট্রাক বা ট্রলিতে ভর্তি করে জোর করে অন্যর জমির উপর দিয়ে এবং স্থানীয় ইউনিয়ন ও গ্রামীন সড়ক দিয়ে নিয়ে যায় ইট ভাটায়। মাটি ভর্তি ট্রাক কিংবা ট্রলিগুলো সড়ক দিয়ে নেওয়ার সময় রাস্তাগুলো ভেঙে যায়। আবার ধুেলা-বালিতে এলাকা অন্ধকার হয়ে যায়। রাড়ি-ঘরে ধূলা-বালির কারনে খাওয়া-দাওয়া, কাপড় শুকানোসহ নানা রোগ-বালাই দেখা দেয়। এতে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবন-যাপন করা কঠিন হয়ে পরে। তখন সাধারন যানবাহন ও জনসাধারনে চলাচলেও দারুন অসুবিধার সৃষ্টি হয়। মাটি কাটার মেশিন (ভেকু) ও মাটি টানার ট্রলির শব্দেও এলাকাবাসীর ঘুম হারাম হচ্ছে। এ ঘটনায় বর্তমানে এলাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।এ ছাড়া কৃষি জমির মাটি কাটলে ভুমির শ্রেনী পরিবর্তন হয়। সরকারি আইন অনুযায়ী ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করতে হলে ভুমি মালিককে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এস এ শাখায় আবেদন করতে হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) অনুমোদন দেবেন। কোন কোন ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকও এ অনুমতি সরাসরি দেন। তবে এর কোনটাই করছেন না ভূমি খেকোরা।উল্লেখ্য, মাটির ব্যবহার নিয়ন্ত্রন ও হ্রাসকরণ ২০১৩ সালের ৫৯ নং আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি ইট প্রস্তত করিবার উদ্দেশ্য কৃষি জমি হইতে মাটি কাটিয়া বা সংগ্রহ করিয়া ইটের কাচাঁমাল হিসাবে ব্যবহার করিতে পারিবেন না। যদি কোন ব্যক্তি আইনের এই ধারা লঙ্ঘন করেন তাহা হইলে তিনি অনধিক ২ (দুই) বৎসরের কারাদন্ড বা ২ (দুই) লক্ষ টাকা অর্থদন্ড বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হইবেন। আবার স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কর্তৃক নির্মিত বা ইউনিয়ন বা গ্রামীন সড়ক ব্যবহার করিয়া কোন ব্যক্তি ভারি যানবাহন দ্বারা ইট বা ইটের কাচাঁমাল পরিবহন করিতে পারিবেন না। যদি কোন ব্যক্তি আইনের এই ধারা লঙ্ঘন করেন তাহা হইলে তিনি অনধিক ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদন্ডে দন্ডিত হইবেন। এতসব আইন থাকার পরও ভূমিদস্যুরা আইনের তোয়াক্কা না করে স্থানীয় প্রশাসনকে ফাকি দিয়ে কিংবা মেনেজ করে এসব কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।এ ব্যাপারে উপজেলার লতব্দী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আবু সালেক জানান, ফসলি জমির মাটি কাটার বিষয়টি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে অবহিত করেছি।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু সাঈদ শুভ্র জানান, কৃষি জমির মাটি কাটার ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের পাশাপাশি ফসলি জমির উর্বরা শক্তি আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পায়। দেশে কৃষি জমির পরিমান কমে যায় এবং বেকার হচ্ছে কৃষক। মাটি কাটার বিষয়টি আমি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করব।সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমি শুনেছি, তবে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের নির্দেশ পেলে ব্যবস্থা নিব।