কুষ্টিয়ায় মিলন হোসেন হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি এসকে সজীবসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, সজীবের নেতৃত্বে কুষ্টিয়া শহরে একটি গ্যাং চলে। তিনি পুলিশের তালিকাভুক্ত কিশোর গ্যাং-প্রধান। তার নেতৃত্বেই মিলনকে হত্যা করা হয়। হত্যার আগে হাউসিং এলাকার একটি বাড়িতে আটকে রেখে তাকে নির্যাতন করা হয়। এরপর লাশ গুম করার সুবিধার্থে ধারাল অস্ত্র দিয়ে ৯ টুকরো করা হয়।
গত বুধবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন মিলন। তিনদিন পর শনিবার সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের কান্তিনগর বোয়ালদহ এলাকায় পদ্মা নদীর চরের ছয়টি জায়গা থেকে মিলনের লাশের ৯ টুকরো উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের টুকরোগুলো সাতটি ব্যাগে রাখা ছিল।
এদিকে মিলন হত্যাকাণ্ডে আটক হওয়ার পর সজীবের নানা অপকর্ম বেরিয়ে আসছে। এসকে সজীবের নাম সজীব শেখ। তার বাবার নাম মিলন শেখ। শহরের আড়ুয়াপাড়া এলাকার হরিবাসর এলাকায় তাদের বাড়ি।
সজীবের নামে কুষ্টিয়া মডেল থানায় মাদক, চাঁদাবাজি, হামলাসহ নানা অভিযোগে পুরোনো সাতটি মামলা আছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসককে মারধরের মামলায় তার দুই বছরের সাজাও হয়েছিল।
সজীব বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতি করছেন। তবে কোনো পদ-পদবি নেই। স্থানীয় ছাত্রলীগের একটি সূত্র জানিয়েছে, সজীব কলেজে পড়ালেখা না করেও হঠাৎ করে ছাত্রলীগের পদ পেয়ে যান। ২০১৭-১৮ সাল থেকেই শহরের হাউসিং এলাকায় কিশোর গ্যাং তৈরি করে এলাকায় চাঁদাবাজি, মারপিট, মাদকের কারবারসহ নানা অপকর্ম শুরু করেন।
একপর্যায়ে নেতাদের সুপারিশে জেলা ছাত্রলীগের সর্বশেষ কমিটিতে সহসভাপতির পদ পেয়ে যান তিনি। এরপর সজীব আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। শহরে প্রকাশ্যে অস্ত্র নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জের ওপর হামলাসহ নানা অপকর্মের কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়।
গত বছর শহরের পিটিআই রোডে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জকে গুরুতর আহত করা হয়। এর আগে শহরের সাদ্দাম বাজার এলাকা এক যুবককে ছুরিকাঘাত করার সময় সজীবও গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় মামলাও হয়েছে।
এ ছাড়া বিএনপির কার্যালয় ও মিছিলেও তার নেতৃত্বে একাধিকবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। শহরের হাউসিং এলাকায় চাঁদাবাজি ও হামলার একাধিক ঘটনা আছে। সেই সব ঘটনায় থানায় মামলাও হয়েছে।
কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভাঙচুর ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মারধরের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় কারাগারে ছিলেন তিনি।
পুলিশ সূত্র জানায়, হাউসিং এলাকায় সজীবের একটি কার্যালয় আছে। সেখানে লোকজনকে ধরে এনে নির্যাতন করে চাঁদা আদায় করা হয়। শহরে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে তার ওঠাবসা আছে। নেতাদের সঙ্গে বিভিন্ন সময় ছবি তুলে তিনি নিজেই ফেসবুকে পোস্ট করেন।
কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পলাশ কান্তি নাথ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে টাকার দাবিতে মিলনকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছেন আটককৃতরা। জড়িতরা সবাই একে অপরের পরিচিত। নিখোঁজের দিন তাকে মোবাইল ফোনে ডেকে হাউসিং এলাকার একটি বাড়িতে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। ওই দিন রাতেই তাকে হত্যা করা হয়। এরপর লাশ গুম করার সুবিধার্থে ধারাল অস্ত্র দিয়ে ৯ টুকরো করে নদীর চরে পুঁতে রাখা হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন তারই বন্ধু সজীব। এর সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনা আছে কিনা, তা নিয়ে আরও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।