এখনো বাজারে অস্থিরতা

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৪ | ৫:৫৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

অতীতের মতো এবারও রমজান শুরুর কয়েক মাস আগে থেকেই নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা শুরু হয়েছে। বিশেষত রোজায় যেসব পণ্যের চাহিদা বাড়ে, অসাধু চক্র সেগুলো নিয়ে কারসাজি শুরু করেছে। এ সমস্যার সমাধানে কর্তৃপক্ষ নানা আশ্বাস দিয়েছে; বেশকিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। তারপরও পণ্যের দাম কমছে না। উলটো বাড়ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, ভোক্তার জন্য সরকারের দেওয়া শুল্ক ছাড়ের সুবিধা চলে যাচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীদের পকেটে। সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের সুফল কেন ভোক্তারা পাচ্ছে না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে বেশকিছু পণ্যের দাম কমেছে। গত ২ মাস ধরে ডলারের দামও মোটামুটি স্থিতিশীল, আমদানি বৃদ্ধির জন্য ডলারের জোগান বাড়ানো হয়েছে। বাকিতে পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শিথিল করা হয়েছে এলসি মার্জিন। কমানো হয়েছে শুল্ক। জ্বালানি তেলের দাম কমায় পণ্যের পরিবহণ খরচও কমেছে। পরিতাপের বিষয়, তারপরও নিত্যপণ্যের দাম কমছে না। দেশে বর্তমানে সরবরাহ সংকট না থাকলেও কিছু অসাধু আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীদের একটি অংশ রমজান সামনে রেখে কীভাবে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির করে তুলছে, তার তদন্ত হওয়া দরকার। বর্তমানে এক কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৪০-১৪৫ টাকায়; গত বছর একই সময়ে এর দর ছিল ১১০-১২০ টাকা। বস্তুত প্রায় প্রতিটি নিত্যপণ্যের ক্ষেত্রেই মূল্য ক্রমবর্ধমান। প্রশ্ন হলো, পণ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার উপায় কী? অতীতে ভোজ্যতেল, চিনি, পেঁয়াজসহ কয়েকটি পণ্য নিয়ে বড় ধরনের কারসাজি করা হলেও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে অন্যরা উৎসাহিত হচ্ছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার পরও তা কার্যকর করা যায়নি। এ অবস্থা চলতে থাকলে আসন্ন রোজার মাসে স্বস্তির পরিবর্তে চাপেই থাকবে ভোক্তারা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঘোষিত আওয়ামী লীগের ইশতেহারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে প্রথম অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মন্ত্রিসভার সদস্যরা দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে নানা বক্তব্য ও পদক্ষেপের কথা বলছেন। অথচ বাস্তবে লক্ষ করা যাচ্ছে, নিত্যপণ্যের বাজারের অস্থিরতা বেড়েই চলেছে। এটা যে করেই হোক বন্ধ করতে হবে। অবৈধ মজুত গড়ে কিংবা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কেউ যাতে পার পেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। বস্তুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কেবল বক্তৃতা-বিবৃতিই যথেষ্ট নয়। সিন্ডিকেটের কারসাজি বন্ধে সময়মতো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দামে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ ও নিুআয়ের মানুষকে। তারা যাতে ন্যায্যমূল্যে নিত্যপণ্য ক্রয় করতে পারে সেজন্য যা যা করা দরকার, সবই করতে হবে। লক্ষ করা গেছে, যখনই অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, তখনই ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের অপতৎপরতা আরও বেড়েছে। সংশ্লিষ্ট পণ্যের সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে ভোক্তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে এটা স্পষ্ট যে, নিত্যপণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে জটিলতা বাড়ছে। কাজেই এসব সমস্যার সমাধানে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নিতে হবে। বাজার তদারকি সংস্থার অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অসাধু ব্যবসায়ীদের আঁতাতের বিষয়টিও খতিয়ে দেখে নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ।