করোনা মহামারি-পরবর্তী পরিস্থিতি, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধসহ বৈশ্বিক নানা সংকটের কারণে ডলার বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব দেশের পুঁজিবাজারেও পড়েছে। ফ্লোর প্রাইসের (নিুসীমা) কারণে পুঁজি আটকে থাকা, আস্থার সংকটসহ নানা কারণে বিনিয়োগকারীদের মাঝে নীরব ‘রক্তক্ষরণ’ও ঘটছিল। অবশ্য দীর্ঘদিন পর অধিকাংশ কোম্পানির ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস উঠিয়ে নেওয়ায় শেয়ারবাজারে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফেরে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এ পরিস্থিতিকে যখন নিজেদের সফলতা হিসাবে বিবেচনা করছে, তখন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) তথ্যপ্রযুক্তিতে (আইটি) রোববার ঘটে গেছে স্মরণকালের সর্বোচ্চ বিপর্যয়। এর ফলে একদিনেই ডিএসইর মূল্যসূচক ৫ হাজার ৯৭১ পয়েন্ট কমে যায়। তালিকাভুক্ত সব কোম্পানির শেয়ারের দাম প্রায় ৯৮ শতাংশ কমে গেছে। এতে দেশের পুরো শেয়ারবাজার যেন অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে। আবার বাজারমূলধন প্রায় ৯০ গুণ বেড়ে ৬৭২ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়। নজিরবিহীন এই কাণ্ডে স্বাভাবিকভাবেই পুরো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিএসইসি ও ডিএসই। তাদের পক্ষ থেকে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
পুঁজিবাজারে তথ্যপ্রযুক্তিগত বিভ্রাট কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়। আমরা মনে করি, এ ধরনের ঘটনা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটানো হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। কারণ, দেশের অর্থনীতিতে পুঁজিবাজারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। দেশের সব মাপের শিল্পপ্রতিষ্ঠান এর তালিকাভুক্ত। শুধু তাই নয়, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের অনেকেই তাদের কষ্টার্জিত অর্থ এখানে লগ্নি করেন। স্টক এক্সচেঞ্জে লেনদেনের প্রভাব জাতীয় অর্থনীতিতেও পড়ে। এ কথা মাথায় রেখেই দেশের স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। বলা বাহুল্য, এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির দিকটিও রয়েছে। এর আধুনিকায়ন ও নিরাপত্তার দিকটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রাখতে হবে। যারা তথ্যপ্রযুক্তির বিষয়টি দেখভাল করেন, তাদের দক্ষতার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্কতা ও আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। এ ধরনের বিভ্রাট শুধু পুঁজিবাজারে থাকা প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারীদেরই উদ্বেগ ও ক্ষতির মধ্যে ফেলে না, এর বিরূপ প্রভাব কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপরও পড়ে। তাই যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং প্রযুক্তিগত বিভ্রাটের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এটাই প্রত্যাশা।