নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়ন ও গ্রামে দুই শতাধিক পরিবার পবিত্র ঈদুল আজহায় বাড়িতে ঈদ করতে পারছে না। যুবলীগ কর্মী আজাদ শেখ হত্যাকে পুঁজি করে বাদী পক্ষের অব্যাহত হুমকি-ধামকিতে আসামিপক্ষের লোকজন বাড়িতে যেতে পারছে না। এ মামলায় এজাহারভুক্ত ২০ জন আসামি জামিনে থাকলেও তাদের পক্ষের এসব পরিবার দীর্ঘ ১১মাস বাড়িছাড়া রয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার পেড়লীতে আজাদ হত্যার ঘটনায় শনিবার আসামিপক্ষের দুই শতাধিক পরিবারের প্রায় ৫০০ নারী-পুরুষ ও শিশু পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করে নিজেদের বাড়িতে যাবার চেষ্টা করে। কিন্তু আজাদের ভাই সাজ্জাদ ও উজ্জ্বলের নেতৃত্বে তাদের দলীয় লোকজন মহসিন মোড় বাজার এলাকায় ঢাল, সড়কি, রামদা, ছ্যানদাসহ অবস্থান নেয়। যার কারণে অসহায় এসব পরিবারের লোকজন কান্নাকাটি করে আত্মীয় স্বজনসহ বিভিন্ন এলাকায় অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নেয়।
আসামিপক্ষের মাতুব্বর শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি ও আমার দলের লোকজন শনিবার সকালে নিজ নিজ বাড়ি প্রবেশের জন্য পাশের অভয়নগর উপজেলার ইছামতি দিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলাম। কিন্তু প্রতিপক্ষ সাজ্জাদ ও উজ্জ্বলের নেতৃত্বে দুই শতাধিক লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পেড়লী গ্রামের মহসিন মোড়ে অবস্থান নেয়। হামলার আশঙ্কায় আমরা বাড়ি ফিরতে পারি নাই। আজাদ শেখ হত্যার ঘটনায় ২০জনের নামে মামলা হয়েছে। আসামিরা বর্তমানে জামিনে রয়েছে। কিন্তু আসামিদের পরিবারসহ আমাদের দলীয় দুই শতাধিক পরিবার বাড়িতে উঠতে পারছে না। আমাদের বাড়িঘর ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে।’
এ ব্যাপারে সাজ্জাদ হোসেন জানান, তারা কাউকে বাড়ি আসতে বাধা দেননি। তাদের লোকজন কোনো দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কাউকে প্রতিহত করার চেষ্টাও করেনি। তবে এলাকায় এসে কেউ অশান্তি সৃষ্টি করবে সে সুযোগও দেওয়া হবে না।
পেড়লী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক আজিজ জানান, পুলিশ মহসিন মোড় বাজার এলাকা পরিদর্শন করেছে। কেউ আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে চাইলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। বর্তমানে এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে।
গত বছরের ২০ জুলাই সন্ধ্যায় যুবলীগ কর্মী আজাদ শেখ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শহিদুল ইসলামকে প্রধান আসামি করে মোট ২০ জনকে আসামি করে কালিয়া থানায় মামলা করা হয়। মামলার আসামিরা বর্তমানে জামিনে মুক্ত আছেন।