টঙ্গীবাড়িতে দুই বিধবার ঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভূমিদস্যুরা।

প্রকাশিতঃ জুন ১, ২০২৪ | ১০:৪২ অপরাহ্ণ
অনলাইন নিউজ ডেক্স

মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার দ্বীপাড়া গ্রামে সরকারি জমিতে বন্দোবস্ত পেয়ে তোলা দুই বিধবার ঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভুমি দস্যুরা।রবিবার (৩০ জুন) গভীর রাতে দ্বীপাড়া গ্রামের বিধবা নারী সুফিয়া বেগম (৭৫) ওর কাঠ ও টিন দিয়ে নির্মিত একটি ঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এ সময় সুফিয়া বেগমের ঘর হতে নগদ ৬০ হাজার টাকা তার পাওয়া যাকাতের ১০ টি কাপড় সহ বিভিন্ন সামগ্রী লুট করে নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। এর আগে গত মঙ্গলবার প্রত্যক্ষ দিবালোকে অপর বিধবা নুরজাহানের (৬০) ঘর ভেঙে গুড়িয়ে দেয় একই ভূমিদস্যুরা আজ সোমবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দ্বীপাড়া গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের বিস্তীর্ণ সরকারি জমি সরকার ২০০১ সালে কতিপয় ভূমিহীন পরিবারকে বন্দোবস্ত দেয়। সে সময় হতে কমপক্ষে ২০ থেকে ২৫ টি পরিবার ওখানে সরকারি জমি বন্দোবস্ত পেয়ে বসবাস করে আসছে। এর মধ্যে সরকারিভাবে বন্দোবস্ত পাওয়া জমিতে দুটি পাশাপাশি ঘর তুলে বসবাস করছিলেন সুফিয়া বেগম ও নুরজাহান।কিন্তু সম্প্রতি মিজান নামের এক ব্যক্তি ওই জমি তার বলে দাবি করেন। স্থানীয় সূত্রে জানাযায় , সরকারি সম্পত্তি নিজে বন্দোবস্ত নিয়েছেন দাবী করে মিজান ওই দুই বিধবার সম্পত্তি স্থানীয় প্রভাবশালী সিরাজ খানের নিকট দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। শিরাজ খান দেড় লাখ টাকায় মিজানের কাছ থেকে ওই সম্পত্তি কিনে পরে দ্বীপাড়া গ্রামের উজ্জলের কাছে তিন লক্ষ টাকায় একই সম্পত্তি বিক্রি করে দেন। পরে উজ্জ্বল ও সিরাজ খাঁন মিলে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী নিয়ে ওই বিধবার বর দুটি গুঁড়িয়ে দেয়।এ ব্যাপারে বিধবা সুফিয়া বেগম বলেন, আমার স্বামী নাই। ছেলেরাও খোঁজখবর নেয় না। সরকার আমারে একটু জমি দিছে। ওই জমিতে ২৩ বছর যাবত ঘরে তুলে থাকি। ঘরের মধ্যে দিয়ে পানি পরে গতকাল বৃষ্টি হইছে বৃষ্টির মধ্যে আমি ওই ঘরে থাকতে না পেরে আমার এক আত্মীয়র বাড়িতে চলে যাই। পরে সকাল বেলা এসে দেখি আমার ঘর নাই । আমার ঘর সিরাজ ও উজ্জ্বল মিলে ভেঙে দিয়ে গেছে ।আমার ঘরে ৬০ হাজার টাকা ছিল যাকাতের বেশ কিছু কাপড় ছিল ওগুলোও নিয়ে গেছে।অপর ভুক্তভোগী নুরজাহান বলেন, সরকার আমারে‌ ২৩ বছর আগে জমি দিছে। আমি ঘর তুলে আছি। গত মঙ্গলবার উজ্জ্বল সন্ত্রাসী নিয়ে এসে দিনের বেলা আমার ঘরটা ভাইঙ্গা ওরা নিজেরা একটা ঘর তুইলা রাইখা গেছে। আমার ঘরের টিন খানগুলো খুইলা ফেলাইয়া দিছে। আমি বাধা দিছি আমারে মারতে ধরতে আসে। ওরা গায়ের জোরে আমাগো ঘর ভাইঙ্গা দিল। আমরা লোকজন নিয়ে প্রশাসনের কাছে গেলে যেসব লোকজন নিয়ে যাই তাদের হুমকি দেয় । আমরা গরিব মানুষ এখন কোথায় যামু।এ ব্যাপারে স্থানীয় হাসান আলী শেখ‌ বলেন , সিরাজ খাঁ একটা দালাল। সে সরকারি জমি মিজান খানের কাছ হতে দেড় লাখ টাকা দিয়ে কিনে উজ্জল এর কাছে তিন লাখ টাকায় বিক্রি করছে । পরে সিরাজ উজ্জ্বল দুজনে মিলে সন্ত্রাসী নিয়ে এসে এই ঘর গুলি ভেঙ্গে দিয়ে গেছে।মোঃ মতিউর রহমান বলেন, ২০ বছর আগে সরকার এই বিধবা দুই নারীদের জমিটুকু দিছিলো। এখন সিরাজ খাঁ উজ্জ্বল সন্ত্রাসী লইয়া আইসা এই বিধবা মহিলা গুলির ঘর ভাঙ্গা দিল এই বিধবার লোকগুলি এখন কই যাইবো।স্থানীয় বিল্লাল হোসেন বলেন, কয়দিন পরপর সন্ত্রাসী নিয়ে এসে আমাদের গরিব লোকদের এলাকা দখল করতে আসে ওরা। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা করছি ।স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির হোসেন শেখ বলেন ,আমার এই এলাকায় অনেক ভূমিহীন পরিবার গুলোকে সরকার জমি বন্দোবস্ত দিছে ।পাশাপাশি এই যে সুফিয়া ও নুরজাহান এদেরও জমি দিছে। এখন সিরাজ খাঁ, উজ্জ্বল বিধবাদের ঘরবাড়ি ভাইঙ্গা দিয়া ওই জমি জোর কইরা দখলে নিতাছে ।এই বিধবা লোক গুলির যাওয়ার কোন জায়গা নাই।এ ব্যাপারে অভিযুক্ত উজ্জ্বল বলেন, সরকার ওই জায়গাটি মিজান নামে এক লোকেরে বন্দোবস্ত দিছিলো। হাশেম নামের এক লোক আমার কাছে ওই জমি বিক্রি করবো বলছিল। মিজানের বিক্রি করে দিব আমি কিনতে রাজি হইছিলাম । কিন্তু আমি পরে কিনি নাই। কারা ওই জায়গার ঘর ভাঙছে আমি বলতে পারিনা । এটাতো সরকারি জায়গা কিভাবে বেচবো জানতে চাইলে সে বলেন সে বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না আমার কাছে বিক্রি করতে চাইছিল মিজান ।এ ব্যাপারে অপর অভিযুক্ত সিরাজ খান বলেন, ওই জমিটা মিজানের। মিজান দখল করতে গেছে। আমি দখল করি নাই। ওই জমি মিজানের কাজ হতে কিনে উজ্জলের কাছে বিক্রি করার বিষয়টিও অস্বীকার করেন তিনি।এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ি উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ফারজানা ববি মিতু এর মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও সে রিসিভ করেনি।এ ব্যাপারে টঙ্গীবাড়ী থানা ওসি মোল্লা সোয়েব আলী বলেন, ঘর ভাঙ্গার কথা উল্লেখ করে দুই নারী থানায় অভিযোগ করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।