টানা তৃতীয় বারের মতো ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে বসছেন নরেন্দ্র মোদি। তবে এবার তার দল বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। যার ফলে সরকার গঠনের পর থেকেই নানা ভালো যাচ্ছে না মোদির সময়। লোকসভা অধিবেশনে প্রায়ই বিরোধীদের তোপের মুখে পড়তে হয় তাকে।
সবশেষ গত ২৯ জুলাই সংসদে বিরোধী দলের নেতা রাহুল গান্ধী প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে বিজেপি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার এই বক্তব্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃস্টি হয় বিজেপি শিবিরে।
রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, তার বাড়িতে তল্লাশির পরিকল্পনা করছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি।
তার দাবি, গত ২৯ জুলাই সংসদে তিনি চক্রব্যূহ নিয়ে যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তার জেরেই তল্লাশির পরিকল্পনা করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাজেট প্রসঙ্গে রাহুল চক্রব্যূহের উদাহরণ দেন।
রাহুল জানিয়েছেন, ইডি থেকেই তিনি খবর পেয়েছেন যে, তার বাড়িতে তল্লাশি হবে। তিনি তৈরি। দুই হাত খুলে চা বিস্কুট খাওয়াবেন তাদেরকে।
তিনি বলেন, হাজারো বছর আগে কুরুক্ষেত্রে অভিমন্যুকে চক্রব্যূহের ফাঁদে ফেলে হত্যা করেছিলেন ছয় জন। আমি কিছুটা গবেষণা করলাম। তাতে দেখলাম, চক্রব্যূহকে পদ্মব্যূহও বলা হতো। পদ্মের আকারে চক্রব্যূহ হতো।
রাহুল বলেছেন, একুশ শতকে নতুন চক্রব্যূহ তৈরি করা হয়েছে, সেটাও পদ্মের আকারে। প্রধানমন্ত্রী নিজে বুকে পদ্মের প্রতীক লাগান। অভিমন্যুর সঙ্গে যা হয়েছিল, তা ভারতের যুবক, কৃষক, নারী, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে করতে চাইছেন তারা। অভিমন্যুকে ছয়জন মেরেছিলেন। আজও চক্রব্যূহের কেন্দ্রে ছয়জনই আছেন।
এরপর তিনি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ছয়জনের নাম উল্লেখ করেন।
রাহুলের দাবি, এই চক্রব্যূহ ভারতের কোটি কোটি মানুষের ক্ষতি করছে।
বিজেপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর বলেছেন, কিছু অ্যাকসিডেন্টাল হিন্দু আছেন, মহাভারত সম্পর্কে তাদের জ্ঞানও অ্যাকসিডেন্টাল। তবে রাহুল গান্ধী চক্রব্যূহের প্রসঙ্গ তুলে ভালোই করেছেন। দেশ কংগ্রেসের অনেক চক্রব্যূহ দেখেছে। তার দাবি, কংগ্রেস নিজেই একটা চক্রব্যূহ, যারা দেশকে বিভাজিত করেছে।
বাজেট বিতর্কে রাহুলের পর অনুরাগ ভাষণ দেন। তিনি রাহুল গান্ধীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। তার জাত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সে বিষয় নিয়ে প্রবল বিতর্কও হয়েছে। পরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সেই ভাষণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করে বলেন, আমার তরুণ সহকর্মীর ভাষণ সবার শোনা উচিত।
উল্লেখ্য, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার করে ইডি। একই মামলায় আম আদমি দলের আরও কয়েকজন নেতাও গ্রেপ্তার হয়েছেন।