রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান উত্তেজনার মধ্যে বুধবার নতুন ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। ইউক্রেন প্রেসিডেন্টের দাবি, কিয়েভের সবচেয়ে বড় আন্তঃসীমান্ত কুরস্ক অঞ্চলে ঢুকে পড়ছেন তাদের সেনারা। শুধু ঢুকে পড়ায় নয়, বেশ দক্ষতার সঙ্গেই এলাকাটি দখলে নিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন ইউক্রেনীয় সেনারা।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাশিয়ার মাটিতে বিদেশি সেনাবাহিনীর সবচেয়ে বড় আক্রমণ এটি, যা গত ৬ আগস্ট শুরু করেন ইউক্রেনের সেনারা। সেই ধারাবাহিকতায় দ্বিতীয় সপ্তাহেও এলাকাটির দখল নিচ্ছেন তারা। আর এর মধ্যে কয়েক ডজন বসতি দখলেও নিয়েছেন তারা।
নিজেদের সেনার এমন অর্জনে বুধবার সন্ধ্যায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা কুরস্ক অঞ্চলে ভালোভাবে অগ্রসর হয়েছি। আমরা আমাদের কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করছি।’ এর আগে একই দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জেলেনস্কি বলেছিলেন, দিনের শুরু থেকে বিভিন্ন এলাকায় এক থেকে দুই কিলোমিটার দখলে নিয়েছেন তার সেনারা।
এ ব্যাপারে ইউক্রেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইগর ক্লাইমেনকো বলেছেন, রাশিয়ার আন্তঃসীমান্ত হামলা ঠেকাতে ইউক্রেন এই অঞ্চলে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করবে। তার মতে, কুরস্ক অঞ্চলে একটি বাফার জোন তৈরি করা আমাদের সীমান্ত সম্প্রদায়কে প্রতিদিনের প্রতিকূল গোলাগুলি থেকে রক্ষা করার একটি পদক্ষেপ।
ইউক্রেনের সেনাদের ক্রমাগত অগ্রসর হওয়ার কারণে বেলগোরোড থেকে নিজেদের ১১ হাজার লোককে সরিয়ে নিয়েছে রাশিয়া। একই সঙ্গে নিজস্ব জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে তারা, যা নিয়ে অঞ্চলটির গভর্নর সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনীয় শেলিং এবং ড্রোন হামলার কারণে পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ায় এমনটি করতে হয়েছে তাদের। তবে রাশিয়ার দাবি, কুরস্কের পাঁচটি এলাকা দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালানো ইউক্রেনের সেনাদের প্রতিহত করেছেন তারা।