শালিখায় গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা করছে পশুপালন

প্রকাশিতঃ ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৫ | ১:৫৬ অপরাহ্ণ
মোঃ সাইফুল ইসলাম, ব্যুরো প্রধান, মাগুরা

গ্রামের মানুষ আগে পশুপালন করতো নিজেদের খাবারের জন্য। কিন্তু সেই অবস্থা এখন আর নেই। সাম্প্রতিক সময়ে কৃষির উপখাত হিসাবে গরুসহ পশুপালনের হার বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পশুপালনের উপর নির্ভর করে শত শত পরিবার তাদের জীবীকা নির্বাহ করছেন এবং অনেকেই অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। ব্যাক্তি উদ্যোগ ছাড়াও এখন বানিজ্যিক ভাবে পশুপালন হচ্ছে। পুরুষের পাশাপাশি নারীরা এগিয়ে আসছেন পশুপালনে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শালিখা উপজেলায় গাভীর খামার রয়েছে ৮৮৯ টি, মোটাতাজাকরণ খামার ২৮৬ টি, ছাগলের খামার ১৯৭ টি, ভেড়ার খামার ১৫ টি এবং মুরগির খামার ১৪১ টি মোট ১হাজার ৫ শত ২৮টি যা চার বছর আগেও এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৭৬৭ টি। বর্তমানে তা প্রায় দিগুণে পৌছেছে। উপজেলার আড়পাড়া ইউনিয়নের পুখুরিয়া গ্রামের ওবায়দুল মোল্লা বলেন, আমার খামারে ছয়টি গরু আছে। প্রতি ছয় মাস পরপর দুটি গরু বিক্রি করি। এ অর্থ দিয়ে জমি বন্ধক নিয়ে চাষ করি। উপজেলার তালখড়ি ইউনিয়নের কুশখালি গ্রামের মোঃ সোহাগ মন্ডল বলেন, গরুর গোয়াল টায় আমাদের ব্যাংকের মতো বিপদ-আপদে গরু বিক্রির অর্থ কাজে লাগায়। অনেকে গরু বিক্রির অর্থ দিয়ে ছেলে সন্তানদের প্রবাসে পাঠাচ্ছেন এবং প্রবাসী আয় দিয়ে বাড়ি নির্মাণ ও জমি কিনছেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ শাহারিন সুলতানা জানান, পশুপালন কারীদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান সহ উন্নত ও পুষ্টি সমৃদ্ধ ঘাস চাষে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এতে খামারিদের খরচ কমছে এবং লাভ বাড়ছে। পশুপালন এখন শুধু জীবিকার মাধ্যম নয় বরং একটি সন্মান জনক পেশা। নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে মধ্যবিত্তরা এই খাতকে নিজেদের স্বপ্ন পূরণের মাধ্যম হিসাবে বেছে নিয়েছেন।