ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুর পল্লিতে নাতির হাতুড়ি পেটায় দাদি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিঃ দিকে হরিণাকুন্ড উপজলার বৈঠাপাড়া বলরামপুর মাঠপাড়া গ্রামে নাতিছেলে আব্দুল মান্নান (৪০) এর হাতুড়ির আঘাতে দাদি রুশিয়া বেগম (৮০) নিহত হয়। আব্দুল মান্নান ঐ গ্রামের মোঃ ফজলুর রহমানের বড় ছেলে।
এলাকাবাসী জানায়, চুয়াডাঙ্গা জেলার শ্রীনগর গ্রামের গনী বাবার মাজারে মুরিদ হওয়ার পর থেকে নাতি মান্নানের মাথায় কিছুটা মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।মাঝে মধ্যেই সে মানুসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে,আবার ঠিকও হয়ে যায়।এক বছর যাবত তার মানসিক সমস্যার কারণে চিকিৎসা চলছে বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানায়।প্রায়ই সে প্রতিবেশি ও পরিবারের লোকের উপড়ে আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠতো। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তার আক্রমণ থেকে বাঁচবার জন্য পরিবারের অন্য সদস্যরা পালিয়ে গেলেও বৃদ্ধা দাদি পালাতে পারেনি, বাড়ী থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরও তাকে নাতিছেলে মান্নান বাড়ীতে এনে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় উপর্যপুরি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। বাড়ীর উঠানে দাদীর পড়েথাকা মরদেহের পার্শে হত্যাকাজে ব্যবহৃত হাতুড়ি, কূর্ণী ও প্লায়ার্স পড়ে ছিলো। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঐ গ্রামের ইউপি সদস্য মোবাইল ফোনে থানায় খবর দিলে থানা ওসি(তদন্ত) আক্তারুজ্জামান লিটন পুলিশ অফিসারদের নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং সুরতহাল শেষে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে প্রেরন করেন।একই সময়ে পুলিশ ঐ গ্রামথেকে আব্দুল মানৃনানকে গ্রেফতার করে।
উল্লেখ্য রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হত্যাকারী মান্নান যে মানসিক ভারসাম্য হীন রোগী তার সপক্ষে ডাক্তারী সদন বা চিকিৎসা পত্র তার পরিবার থানায় উপস্থাপন করতে পারেনি বলে থানা পুলিশ সুত্র জানিয়েছে ।
এ ব্যাপারে হরিণাকুণ্ডু থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে মান্নান এ ঘটনা ঘটিয়েছে এমনটি এখনই বলা যাচ্ছেনা। তাকে আটক করা হয়েছে। সে বৈঠাপাড়া বলরামপুর গ্রামের ফজলুর রহমানের ছেলে। এ ঘটনায় থানায় হত্যাকারী মান্নানের ফুপু কমেলা খাতুন মামলা দায়ের করেছে।